সিইসির সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের বৈঠক

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৩ বার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ চলাকালে বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে ১১ দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধি দল।

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ চলাকালে বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে ১১ দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রায় ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রবেশ করে। নির্বাচন কমিশনের চলমান কার্যক্রম ও বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রাপ্ত অভিযোগ-পর্যবেক্ষণ নিয়ে আলোচনা করতেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রতিনিধি দলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমসহ জোটের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়াও অন্য তিন নির্বাচন কমিশনার অংশ নেন। কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

বৈঠকের আগে সাংবাদিকরা কারণ জানতে চাইলে মাওলানা আবদুল হালিম সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আলোচনার বিষয়বস্তু ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে জানানো হবে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অভিযোগ বা দাবি প্রকাশ করেননি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের দিন বিভিন্ন আসন থেকে পাওয়া অভিযোগ, এজেন্ট প্রবেশে বাধা, ভোটারদের নিরাপত্তা এবং গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা—এসব বিষয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে।

নির্বাচনের দিন বিকেলে এমন বৈঠক রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ভোটগ্রহণের সময়েই বড় কোনো রাজনৈতিক জোটের প্রতিনিধিদল কমিশনে গিয়ে আলোচনা করলে তা নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত উদ্বেগ বা পর্যবেক্ষণের ইঙ্গিত দেয়। যদিও নির্বাচন কমিশন সূত্র বলছে, বিভিন্ন দল ও প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া কমিশনের নিয়মিত কাজের অংশ।

সারা দেশে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। নির্বাচন কমিশন দুপুর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানায়, অধিকাংশ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার খবর পাওয়া গেলেও কোনো কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়নি। কমিশনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পর্যবেক্ষক দলও মাঠে সক্রিয়।

১১ দলীয় জোটের এই বৈঠককে ঘিরে নির্বাচন ভবনের সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি বাড়ে। বৈঠককক্ষের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকরা সম্ভাব্য ব্রিফিংয়ের জন্য প্রস্তুতি নেন। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়—জোট কি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেবে, নাকি কেবল পরিস্থিতি অবহিত করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, একটি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে কেবল ভোটগ্রহণের দিনের ওপর নয়; বরং পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অংশীজনদের আস্থার ওপর। বড় রাজনৈতিক জোটগুলোর সঙ্গে কমিশনের সরাসরি সংলাপ পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের দিন যেকোনো উত্তেজনা দ্রুত নিরসনে এমন বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী অভিযোগ জানালে তা লিখিত আকারে গ্রহণ করে তাৎক্ষণিক তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা বা প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনাও দেওয়া হয় প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে।

ভোটের দিন বিকেলে কমিশন ভবনে এমন বৈঠক ভোটারদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি করেছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়া যেন নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়—এ বিষয়ে সব পক্ষের অবস্থান কী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বৈঠকটি নিয়ে আলোচনা চলছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করছে। কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই গণনা হবে এবং ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা হবে।

১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধি দল বৈঠক শেষে কী সিদ্ধান্ত বা বক্তব্য জানায়, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি জোট কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ তোলে, তাহলে কমিশনের প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে।

দিনশেষে ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফলাফল ঘোষণার স্বচ্ছতা—এই তিনটি বিষয়ই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সংলাপ সেই আস্থার সেতু মজবুত করতে পারে। ভোটের দিন বিকেলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং চলমান নির্বাচনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত