বগুড়ায় নিরঙ্কুশ বিজয়ের পথে তারেক রহমান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৬ বার
বিএনপি গড়বে নিরাপদ দেশ: তারেক রহমান

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বগুড়া-৬ সদর আসনে ভোট গণনা যত এগোচ্ছে ততই স্পষ্ট হচ্ছে বড় ব্যবধানের চিত্র। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ৪১টি কেন্দ্রের প্রাথমিক ফলাফলে বিএনপি চেয়ারম্যান ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তারেক রহমান উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে নিরঙ্কুশ জয়ের আভাস নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে যদিও চূড়ান্ত ঘোষণা এখনো বাকি।

প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী ৪১টি কেন্দ্রে তারেক রহমান পেয়েছেন মোট ৫৬ হাজার ৩৮১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ২৪ হাজার ৫৩৮ ভোট। ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৮৪৩ ভোটে। এই ব্যবধানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলছেন পর্যবেক্ষকেরা।

মাটিডালী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে। সেখানে তারেক রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ৯৫১ ভোট। একই কেন্দ্রে আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ১ হাজার ৯৯ ভোট। এরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন কেন্দ্রে তারেক রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩৪ ভোট। আবিদুর রহমান সেখানে পেয়েছেন ১ হাজার ৪ ভোট। দুই কেন্দ্রেই ব্যবধান ছিল স্পষ্ট।

সেউজগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষ পেয়েছে ১ হাজার ৭০ ভোট। দাঁড়িপাল্লা সেখানে পেয়েছে ৪২৩ ভোট। বুজুর্গধামা কেন্দ্রে তারেক রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ৭১৮ ভোট। আবিদুর রহমান পেয়েছেন ৮৮৩ ভোট। মেঘাগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধানের শীষ পেয়েছে ১ হাজার ৫৭১ ভোট। দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ৬৬০ ভোট। সরকারি মোস্তফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে তারেক রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ৫৪১ ভোট। আবিদুর রহমান পেয়েছেন ৭৬৫ ভোট। ঠনঠনিয়া নুরুন আলা নূর ফাজিল মাদ্রাসার দুটি কেন্দ্রেও বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী।

অন্য প্রার্থীদের ভোট এসব কেন্দ্রে তুলনামূলকভাবে কম। ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আবু নুমান মো. মামুনুর রশিদ কয়েকশ ভোটের মধ্যে সীমিত রয়েছেন। জাসদের তারা প্রতীকের আব্দুল্লাহ আল ওয়াকী এবং বাসদের মই প্রতীকের দিলরুবা নূরীর ভোটও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেনি প্রাথমিক চিত্রে।

দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে গণনা শুরু হয়। অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোছা. আছিয়া খাতুন জানিয়েছেন সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই আসনে ৭১ দশমিক ১৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। উচ্চ উপস্থিতির হার প্রার্থীদের পক্ষে শক্ত জনসমর্থনের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বগুড়া সদর ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। জাতীয় রাজনীতির প্রভাব এখানে সরাসরি প্রতিফলিত হয়। এবারের নির্বাচনে বড় দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেন্দ্র করে ভোটারদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রচারণা পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মসংস্থান অবকাঠামো এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন সামনে এসেছে বারবার।

৪১টি কেন্দ্রের ফলাফল সামগ্রিক আসনের পূর্ণ চিত্র নয়। তবে ব্যবধানের যে ধারা দেখা যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে নিরঙ্কুশ জয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গণনা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রের ফল যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবধানের হিসাব আরও স্পষ্ট হবে। এখন বগুড়া-৬ আসনের ভোটার ও রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে। প্রাথমিক চিত্রে ধানের শীষ এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থী বিজয়ের হাসি হাসবেন তা নির্ধারণ করবে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত