প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দলকে ইতিহাসের একটি ‘দুঃখী দল’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন দীর্ঘ সংগ্রাম এবং ত্যাগের পথ পেরিয়ে জামায়াত আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে সুযোগ এলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সরকার পরিচালনায় অংশীদার করার প্রতিশ্রুতি দেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন এবারের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ জামায়াতের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন। তিনি মনে করেন রাষ্ট্র গঠনে প্রবাসীদের অবদান কেবল অর্থনৈতিক সীমায় আবদ্ধ থাকা উচিত নয়। নীতি নির্ধারণ ও প্রশাসনিক অংশীদারত্বেও তাদের সম্পৃক্ত করার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। তার ভাষ্যে দেশের বাইরে অবস্থান করেও যারা জাতীয় অর্থনীতিকে সচল রাখছেন তাদের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা রাষ্ট্রের কাজে লাগানো যেতে পারে।
দলকে ‘দুঃখী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন অসংখ্য মজলুম মানুষের চোখের পানি জামায়াতকে দৃঢ় করেছে। অতীতের দমন-পীড়ন এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন এই ইতিহাস দলকে পিছিয়ে দেয়নি বরং সংগঠিত করেছে। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া নারীদের ত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তার দাবি সেই সময় বহু মা জীবন ও সম্ভ্রমের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন।
নারীর অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন আগামী দিনে নারীদের অধিকার বাস্তবায়নে জামায়াত অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে চায়। সমাজের সব স্তরে ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ছাড়া স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়।
দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন জাতির ভার তাদের কাঁধে এলে সব মানুষকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে চান। তিনি রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের কথা উল্লেখ করেন। বক্তব্যে গণমাধ্যমের ভূমিকাও গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন গণমাধ্যমকে সহযোগী হিসেবে প্রয়োজন। দেশে চূড়ান্ত স্বাধীন পরিবেশে গণমাধ্যম কাজ করবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একত্রিত করতে হবে। তার মতে একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই রাজনৈতিক সংগ্রামের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। প্রবাসী অংশীদারত্ব থেকে শুরু করে সামাজিক ন্যায়বিচার—সব ক্ষেত্রেই অংশগ্রহণমূলক কাঠামো গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন এই বক্তব্য নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে কৌশলগত বার্তা বহন করে। প্রবাসী ভোটার ও সমর্থকদের প্রতি ইতিবাচক ইঙ্গিত যেমন রয়েছে তেমনি সংগঠনের অতীত সংগ্রামের স্মরণও রয়েছে। এতে দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখার প্রচেষ্টা স্পষ্ট।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয়। বিশেষ করে প্রবাসীদের সরকারে অংশীদার করার ঘোষণা ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। নির্বাচনোত্তর প্রেক্ষাপটে তার এই মন্তব্য দলীয় অবস্থান ও অগ্রাধিকারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।