গণভোটে ৭৫.৩৪% ‘হ্যাঁ’, এগিয়ে সংস্কার প্রস্তাব

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৩ বার
গণভোটে ৭৫.৩৪% ‘হ্যাঁ’

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছে ‘হ্যাঁ’। রাত ২টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন ও বিভিন্ন জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, মোট ভোটের ৭৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ পড়েছে ‘হ্যাঁ’ এবং ২৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ পড়েছে ‘না’। প্রাপ্ত এই ফলাফল সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে জনসমর্থনের শক্ত বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও সব কেন্দ্রের ফল এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আংশিক ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, রাজধানীর বেশ কয়েকটি আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট সুস্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। ঢাকা-৫ আসনের ১৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০টির ফল পাওয়া গেছে। সেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৯ হাজার ৪৬২টি, বিপরীতে ‘না’ পড়েছে ৩ হাজার ১৬০টি। ব্যবধান স্পষ্ট হলেও বাকি কেন্দ্রের ফলাফল সামগ্রিক চিত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।

ঢাকা-৬ আসনের ১০১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৪টির ফলাফল পাওয়া গেছে। এখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৩০ হাজার ১৭২ জন এবং ‘না’ ভোট দিয়েছেন ১৪ হাজার ১৯ জন। একইভাবে ঢাকা-১৪ আসনের ১৭৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টির ফলে দেখা যায়, ‘হ্যাঁ’ পেয়েছে ২৪ হাজার ৬৮৫ ভোট আর ‘না’ পেয়েছে ৬ হাজার ৭০৭ ভোট। ঢাকা-১৭ ও ঢাকা-১৮ আসনেও ‘হ্যাঁ’ স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে।

রাজধানীর বাইরে চিত্রও প্রায় একই রকম। নেত্রকোণা জেলার পাঁচটি আসনে মোট ভোটার ২০ লাখ ৪৪ হাজার ৭৩৬ জন। ৬৭৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৬৫টির ফলে দেখা গেছে, ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৫ লাখ ৮৯ হাজার ২৮৩টি এবং ‘না’ পড়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭৪৭টি। এই জেলায়ও ‘হ্যাঁ’ ব্যবধান ধরে রেখেছে।

কুমিল্লা-১ আসনের ১৪৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৩টির ফলে ‘হ্যাঁ’ পেয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ১৪ ভোট এবং ‘না’ পেয়েছে ৩৮ হাজার ৫৪৬ ভোট। ময়মনসিংহ-৭ আসনে ‘হ্যাঁ’ পেয়েছে ৯৪ হাজার ৬০৫ ভোট, ‘না’ পেয়েছে ২৭ হাজার ৪৯৭ ভোট। ময়মনসিংহ-১১ আসনেও একই ধারা বজায় রয়েছে।

তবে সব জায়গায় চিত্র একমুখী নয়। খাগড়াছড়ির ২০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪১টির ফলে দেখা গেছে, সেখানে ‘না’ সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে। ‘হ্যাঁ’ পেয়েছে ৩০ হাজার ৬৬৫ ভোট, আর ‘না’ পেয়েছে ৩১ হাজার ৭৬ ভোট। পার্বত্য অঞ্চলে এই ভিন্ন প্রবণতা স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গণভোটের সামগ্রিক ফল এখনো চূড়ান্ত নয়। তবে প্রাপ্ত আংশিক ফলাফলে স্পষ্ট যে সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব কেন্দ্রের ফল একত্রিত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। তখন শতকরা হার সামান্য ওঠানামা করতে পারে।

গণভোটের এই ফল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব কার্যকর হলে সংবিধান বা নীতিগত কিছু পরিবর্তনের পথ উন্মুক্ত হবে। রাজনৈতিক দলগুলোও ফলাফলের দিকে গভীরভাবে নজর রাখছে। শাসকদল এবং বিরোধী উভয় পক্ষের জন্যই এটি ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজনের কারণে ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। সহিংসতার বড় কোনো ঘটনা না ঘটায় প্রশাসন স্বস্তি প্রকাশ করেছে।

সব মিলিয়ে প্রাপ্ত ফলাফল বলছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বড় ব্যবধানে এগিয়ে। এখন অপেক্ষা চূড়ান্ত ঘোষণার। জনগণের রায়ের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেটিই এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত