ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ: ইসি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩২ বার
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির জনসংযোগ পরিচালক আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সারা দেশের কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত উপাত্তের ভিত্তিতেই এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, এখনও কিছু বিচ্ছিন্ন কেন্দ্রের চূড়ান্ত হিসাব আসা বাকি রয়েছে। তবে সামগ্রিক প্রবণতা বিশ্লেষণে ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশেই স্থিতিশীল রয়েছে। চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের সময় সামান্য ওঠানামা হতে পারে, কিন্তু বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলেও তারা ধারণা দিচ্ছেন।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। দেশের ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনে ভোট স্থগিত রয়েছে। নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। বহুদলীয় অংশগ্রহণের কারণে প্রতিযোগিতা ছিল তীব্র এবং বেশ কিছু আসনে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা বিরাজ করেছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটের হার প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করায় ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা ব্যবহারের বিষয়গুলোও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে তারা মনে করেন।

গত ১২টি জাতীয় নির্বাচনের ভোটের হার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অংশগ্রহণের হার সময়ভেদে ওঠানামা করেছে। কোনো কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছিল ৮০ শতাংশের বেশি, আবার কোনো সময় তা নেমে এসেছে ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। এই প্রেক্ষাপটে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশকে অনেক বিশ্লেষক মধ্যম মাত্রার অংশগ্রহণ হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা ভোটার উপস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কেন্দ্রভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান পরে প্রকাশ করা হবে। এতে প্রতিটি আসন ও কেন্দ্র অনুযায়ী ভোটের হার, বাতিল ভোট এবং অন্যান্য পরিসংখ্যান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। গবেষক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের জন্য এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভোটের দিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেক ভোটার প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। নারী ও তরুণ ভোটারের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে, বড় ধরনের সহিংসতা ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

সব মিলিয়ে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোটার অংশগ্রহণ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন অপেক্ষা চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ এবং নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর দিকে। জনগণের অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নীতিনির্ধারণে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই হবে আগামী দিনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত