প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
এবারের পর্যটন মৌসুমে দেশের হোটেল ও রিসোর্ট খাত কিছুটা মন্দাভাবের মুখে পড়েছে। নির্বাচনী প্রেক্ষাপট, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পর্যটকদের আগমন কমে গেছে। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের আগে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর হোটেল, মোটেল এবং রিসোর্টে অতিথি উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এ অবস্থায় পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে পর্যটকদের আকর্ষণ ও ব্যবসা ধরে রাখার জন্য হোটেল ও রিসোর্টগুলো নানা ধরনের ছাড় এবং বিশেষ সুবিধার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
শেয়ারট্রিপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া হক জানিয়েছেন, চলতি বছরের শীতকালীন পর্যটন মৌসুমে গত বছরের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কম ব্যবসা হয়েছে। তিনি বলেন, “নির্বাচন, নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যটন খাতের উপর প্রভাব ফেলেছে।” পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রমজান মাসে পারিবারিক ও ধর্মীয় ব্যস্ততা বাড়ায় ভ্রমণ প্রবণতা আরও কমে যায়। ফলে পর্যটনকেন্দ্রগুলো ব্যবসা ধরাতে বিশেষভাবে মূল্যছাড়ের প্রলোভন দিচ্ছে।
গাজীপুরের পর্যটন এলাকায় কয়েকটি রিসোর্ট ইতিমধ্যেই বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেছে। রাজবাড়ীতে অবস্থিত সারাহ রিসোর্ট জানিয়েছে, জানুয়ারির শুরু থেকে কক্ষভেদে প্রায় ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারির শেষ দিকে সব কক্ষেই ৫৩ শতাংশ ছাড় চালু করা হয়। ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা এই রমজানে সব কক্ষে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। রিসোর্টটির সহকারী ব্যবস্থাপক আতিকুর রহমান জানান, নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে থেকেই অতিথি আগমন কমেছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে কক্ষ বুকিংয়ের হার ছিল ৫০ শতাংশ, চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে তা ২০ শতাংশে নামেছে।
কালমেঘা কান্ট্রি ক্লাব অ্যান্ড রিসোর্টেও চলতি মাসে ভিলা বুকিংয়ে ৩০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। রমজানের জন্য ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ মূল্যছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গাজীপুরের ছুটি রিসোর্টসহ অন্যান্য রিসোর্টগুলোও বিভিন্ন ধরনের ছাড় দিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।
শ্রীমঙ্গল এবং সিলেট অঞ্চলেও পর্যটক উপস্থিতি কমে গেছে। শ্রীমঙ্গলে বালিশিরা রিসোর্ট জানিয়েছে, জানুয়ারিতে কক্ষের জন্য ৩২ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে কিছু কক্ষে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় চালু রয়েছে। রিজার্ভেশন এক্সিকিউটিভ অয়ন শর্মা জানান, গত বছরের তুলনায় বুকিং প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। রমজান শুরু হলে চার থেকে পাঁচ দিন টানা পর্যটক উপস্থিতি নাও থাকতে পারে।
কক্সবাজারেও হোটেল ও রিসোর্টে বুকিং কমে গেছে। সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পাতে একটি কক্ষের সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা, যা আগের সময়ে আট হাজার টাকা ছিল। লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা এ কে এম আসাদুর রহমান বলেন, “রমজার সময় পর্যটক আগমন ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কমে যায়। এবারের নির্বাচন ও সার্বিক পরিস্থিতির কারণে চলতি মাসের শুরু থেকেই কমে গেছে। তবে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ঈদে ভালো ব্যবসা আশা করা যাচ্ছে।”
এক্সোটিকা সাম্পান হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টও রমজান উপলক্ষে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত ৫০ শতাংশ মূল্যছাড় দিয়েছে। রিজার্ভেশন এক্সিকিউটিভ আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, এ ছাড়ের মাধ্যমে পর্যটক আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের কারণে বুকিং স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে।
পর্যটন খাতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশেষ ছাড় এবং প্যাকেজ ঘোষণা পর্যটকদের আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হবে। তবে নির্বাচন, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকলে ব্যবসা আরও ভালো হতো। পর্যটন মৌসুমে হোটেল ও রিসোর্টগুলো শুধু ব্যবসার দিকে নয়, মানুষের নিরাপদ এবং আনন্দদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতেও সচেষ্ট।
এভাবে দেশের পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা রমজানকে সামনে রেখে বিশেষ ছাড়ের মাধ্যমে পর্যটক আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। গাজীপুর, সিলেট, শ্রীমঙ্গল ও কক্সবাজারে হোটেল ও রিসোর্টগুলো এই প্রক্রিয়ায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে বছরের এই মৌসুমেও পর্যটকদের আগমন বাড়ানো যায় এবং ব্যবসা ধরে রাখা যায়