প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল স্বাভাবিক হয়ে গেছে। বন্দরটিতে দীর্ঘদিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক প্রবাহ পুনরায় শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা স্বস্তি অনুভব করছেন।
বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, নির্বাচনের কারণে ঘোষিত সরকারি ছুটির মধ্যে বন্দর দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তিনি জানান, নির্বাচনের আগে প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রায় পাঁচ শতাধিক ট্রাক পণ্য আমদানি হয়, আর বাংলাদেশ থেকে প্রায় দুই শতাধিক ট্রাক পণ্য ভারতে রপ্তানি করা হয়। তাই তিন দিনের বাণিজ্য বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলেন।
বেনাপোল স্থলবন্দর-এর পরিচালক শামীম হোসেন জানান, নির্বাচনের কারণে গত তিন দিন বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। তিনি জানান, শনিবার সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ভারত থেকে ২০টি পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ৫টি ট্রাক পণ্য ভারতে রপ্তানি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বন্দরটি দেশের অর্থনীতি ও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্দর পরিচালনা ও পণ্য পরিবহনের স্বাভাবিকতা বজায় রাখার জন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে।
বেনাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে চাল, চিনি, চায়ের পণ্য, ঔষধ, তৈলজাত পণ্য এবং শিল্পজাত মালামাল প্রায়ই পরিবহণ করা হয়। নির্বাচনের কারণে এই বন্দর তিন দিন বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। এখন বাণিজ্য স্বাভাবিক হওয়ায় ব্যবসায়ীরা পণ্যের সরবরাহ ও বাজার পরিচালনায় স্বস্তি পেয়েছেন।
এদিকে, সীমান্ত ব্যবসায়ীরা জানান, বেনাপোল বন্দর খুলে দেওয়ায় ব্যাকলগ কমাতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে ট্রাক চলাচলের সঙ্গে সঙ্গে শুল্ক কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, চলতি মাসে বন্দর দিয়ে পণ্যের চলাচল আগের মতো নিয়মিত হবে এবং বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের ধারা স্থিতিশীল থাকবে।
বেনাপোল বন্দর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র। দেশের আঞ্চলিক অর্থনীতি ও ব্যবসার জন্য বন্দরটি একটি মূল সংযোগকেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই বন্দর দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়া হয়, যা স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্ব বহন করে। বন্দর পুনরায় খোলায় ব্যবসায়ীরা নতুন করে বাণিজ্যিক পরিকল্পনা করতে পারছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা মনে করছেন, বন্দর খোলার ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক হলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্য সরবরাহে বিলম্ব কমবে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। এছাড়া, বাংলাদেশ থেকে ভারতের রপ্তানিতে নতুন চুক্তি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগও তৈরি হবে।
সাজেদুর রহমান বলেন, নির্বাচনের কারণে বন্দর বন্ধ থাকলেও সরকারের সময়মতো ছুটি ঘোষণা ও পুনরায় বন্দর চালু করার সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের জন্য উপকারী প্রমাণিত হয়েছে। বন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য দায়িত্বশীলরা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বেনাপোল বন্দর পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ায় দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বাণিজ্য কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে দেশের অর্থনীতি ও স্থানীয় কর্মসংস্থানের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, নির্বাচনের কারণে আগের মতো বিলম্ব আর হবে না এবং বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন আগের নিয়মিত গতি পাবে।