মাস্ক-বেজোস চাঁদে প্রতিযোগিতা, চীনকে টেক্কা দিতে প্রস্তুতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭ বার
মাস্ক-বেজোস চাঁদে প্রতিযোগিতা, চীনকে টেক্কা দিতে প্রস্তুতি

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মহাকাশ গবেষণার নতুন যুগে যুক্তরাষ্ট্রের দুই শীর্ষস্থানীয় ধনকুবের—ইলন মাস্ক ও জেফ বেজোস—চাঁদে অভিযান ও অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। তাদের লক্ষ্য একসাথে চাঁদে অবস্থান কেন্দ্র বা চন্দ্রঘাঁটি তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে চীনের মহাকাশ কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠান ‘মুনবেজ আলফা’ নামে একটি চন্দ্রঘাঁটি গড়ার পরিকল্পনা করছে। এখানে চাঁদের পৃষ্ঠে একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণযন্ত্র বসানো হবে, যা এআইভিত্তিক কম্পিউটিং নেটওয়ার্ক চালাতে সহায়তা করবে। নেটওয়ার্কে সর্বোচ্চ ১০ লাখ স্যাটেলাইট যুক্ত করা সম্ভব হবে। এই উদ্যোগ স্পেসএক্সের মূল লক্ষ্য—মঙ্গল গ্রহে স্থায়ী বসতি—থেকে সাময়িকভাবে সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত স্পেসএক্স দীর্ঘদিন ধরে মঙ্গল অভিযানের স্বপ্ন দেখলেও এখন মাস্ক চাঁদকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে চাইছেন।

অন্যদিকে, জেফ বেজোসের মালিকানাধীন ব্লু অরিজিনও চাঁদ অভিযানে তৎপর। চলতি বছর তারা চন্দ্রপৃষ্ঠে মনুষ্যবিহীন যান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এই অভিযানকে নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। নাসা এ প্রকল্পের জন্য স্পেসএক্সের স্টারশিপ মহাকাশযানকেও ব্যবহার করবে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রথম মানব চাঁদ অভিযানে নাসা ১৯৬৯ সালে চাঁদে মানুষ পাঠায়। ১৯৭২ পর্যন্ত মোট ১২ নভোচারী চাঁদের পৃষ্ঠে হেঁটেছিলেন। বর্তমান পরিকল্পনা ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করবে বলে নাসা মনে করছে।

মাস্ক সম্প্রতি জানান, তিনি চাঁদে একটি স্থায়ী অবস্থান কেন্দ্র গড়ে তুলতে চাইছেন এবং সেখান থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ চালাতে চান। মহাকাশবিষয়ক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান প্রোকিউরএএমের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু চানিন মনে করেন, ‘চাঁদ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাপথের সূচনা কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হতে পারে। স্পেসএক্স যদি আগেভাগে সেখানে অবকাঠামো তৈরি করে, তাহলে ভবিষ্যতে তাদের অগ্রাধিকার থাকবে, এটি ব্যবহার করা হবে কীভাবে, তা তারা নির্ধারণ করতে পারবে।’

স্পেসএক্সের স্টারশিপ রকেট এখনও কক্ষপথে কোনো স্থায়ী অবকাঠামো স্থাপন করতে পারেনি। ২০২৩ সাল থেকে এটি ১১ বার উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। আগামী এক মাসে আরেকটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছে। স্টারশিপের ওপরের ধাপটি চাঁদে অবতরণ যান হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ২০২৮ সালে চাঁদে মনুষ্যবাহী অভিযান পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মহাকাশ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সময়সীমা পূরণ করা সহজ হবে না। স্টারশিপকে চাঁদে নিরাপদভাবে অবতরণ করানো ও কক্ষপথে জ্বালানি ভরার অনুশীলনসহ অনেক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

টেক্সাসে স্পেসএক্সের উৎক্ষেপণ কেন্দ্র তদারকের দায়িত্বে থাকা ক্যাথি লুয়েডারস বলেন, ‘স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের মধ্যে প্রচণ্ড প্রতিযোগিতা চলছে। বিশেষ করে চাঁদে মাস্কের মনোযোগ নাসাকে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সাহায্য করছে।’ একসময় নাসায় কাজ করা লুয়েডারস বর্তমানে শিল্প-বিষয়ক স্বাধীন পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছেন।

মাস্ক ও বেজোসের প্রতিযোগিতার প্রভাব নতুন মহাকাশ সংস্থাগুলোর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। লুনার আউটপোস্ট নামের কোম্পানির প্রধান নির্বাহী জাস্টিন সাইরাস জানান, ‘গত সপ্তাহে ২০ জন বিনিয়োগকারী আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। চাঁদে অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। ইলনের ঘোষণায় বিষয়টি আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।’

সাম্প্রতিক এই উদ্যোগগুলি মার্কিন মহাকাশ সংস্থাকে চীনের চন্দ্র অভিযান ও ভবিষ্যৎ কৌশলগত পদক্ষেপের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় একটি শক্ত অবস্থানে রাখছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাঁদে অবকাঠামো ও স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্থাপনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত প্রাধান্য নিশ্চিত করতে পারবে এবং মঙ্গল অভিযানসহ অন্যান্য মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে সুবিধা পাবে।

চাঁদকে কেন্দ্র করে মাস্ক ও বেজোসের এই দ্বিগুণ উদ্যোগ শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, এটি বিনিয়োগকারীদের মনোভাব ও বৈশ্বিক মহাকাশ প্রতিযোগিতার দিকেও প্রভাব ফেলছে। এতে চীনের পরিকল্পিত চন্দ্রাভিযানের আগে মার্কিন কোম্পানিগুলো তাদের কৌশলগত অবস্থান মজবুত করতে চাইছে।

মহাকাশবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এই প্রতিযোগিতা শুধু চাঁদে নয়, ভবিষ্যতে মঙ্গলসহ অন্যান্য গ্রহের অভিযানে নতুন উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের পথ খুলবে। চাঁদে অবকাঠামো নির্মাণ ও স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্থাপনের এই প্রতিযোগিতা আগামী দশকে মহাকাশ গবেষণার দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত