প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দেশের গত ৫০ বছরের রাজনৈতিক প্রবাহকে একটি নির্দিষ্ট আদর্শের অধীন বিভাজিত বলেই চিহ্নিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, মুজিববাদী আদর্শ দীর্ঘদিন ধরে দেশকে ‘মুক্তিযোদ্ধা বনাম রাজাকার’ দ্বন্দ্বে বন্দী রেখেছে। একইসঙ্গে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই বিভাজনের রূপকার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জনতার গণপ্রতিরোধের মুখে তাকে ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে হয়েছিল।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেলে ভোলা প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। এটি ছিল এনসিপি আয়োজিত ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’র ১৫তম দিনের কর্মসূচির অংশ।
নাহিদ ইসলামের ভাষ্য মতে, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান (২০২৪ সালের ১৭ জুলাই ঘোষিত সরকারবিরোধী বিক্ষোভ) দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক বোধের উন্মেষ ঘটায়, যেখানে জনগণ মুক্তিযুদ্ধ বনাম রাজাকার বিভাজনের বাইরে এসে সরাসরি নিজেদের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য রাস্তায় নেমে আসে। তিনি বলেন, “এই গণপ্রতিরোধই শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দেয়। সাধারণ মানুষ আর বিভক্তির রাজনীতি চায় না।”
তিনি তার বক্তব্যে মুজিববাদকে দায়ী করে বলেন, “গত ৫০ বছর ধরে দেশ এক ধারার মধ্যে আটকে ছিল। রাষ্ট্রপরিচালনার মূলমন্ত্র ছিল মুজিববাদ—যা বাস্তবে জনগণকে মুক্তিযোদ্ধা বনাম রাজাকার দ্বন্দ্বে ফেলে দেয়। এই মেরুকরণে প্রকৃত গণতন্ত্র হারিয়ে যায়। আমরা চাই এমন বাংলাদেশ, যেখানে কোনো বিভাজন থাকবে না।”
নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, “আমরা যে বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেছি, তা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়। সেটি হবে সর্বজনের অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি রাষ্ট্র। একটি বাংলাদেশ যেখানে শ্রমিকের কথা গুরুত্ব পাবে, কৃষক মর্যাদা পাবে, মধ্যবিত্তের কষ্ট শুনবে রাষ্ট্র এবং আমজনতা নিজেকে রাষ্ট্রের অংশ মনে করবে।”
নাহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, এনসিপি এখন এমন এক রাজনীতির ধারা চায়, যেখানে অতীতের বিভক্তির ইতি টেনে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, “আমরা গণতন্ত্র চাই, কিন্তু সেটি হতে হবে অংশগ্রহণমূলক। যেখানে ক্ষমতা যাবে জনগণের হাতে, সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ, আর সরকার হবে গণমানুষের প্রতিনিধি।”
ভোলা প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত এ পথসভায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। ব্যানার-প্ল্যাকার্ডে ভাসছিল ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার শপথ’, ‘ভোটাধিকার ফিরিয়ে দাও’ ইত্যাদি স্লোগান।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তৃতার শেষদিকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “আমাদের এই পদযাত্রা থেমে যাবে না। এটি ছড়িয়ে পড়বে সারাদেশে। আগামী নির্বাচনের আগেই মানুষ জানবে কারা প্রকৃত গণতন্ত্রের প্রতিনিধি, আর কারা ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য ইতিহাসের অপব্যবহার করে।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির সাম্প্রতিক তৎপরতা ও বক্তব্য রাজনীতিতে একটি নতুন বার্তা নিয়ে এসেছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে ‘মুজিববাদ বনাম বহুমতবাদ’ বিতর্কের এই নতুন অধ্যায় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার খোরাক জোগাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।