প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৪ দিনে দেশে প্রবাসী অর্থপ্রবাহ বা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য, মোট ১৩৫ কোটি ৪১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। তবে দেশের ৯টি ব্যাংকে এই সময়ে একটিও রেমিট্যান্স আসেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে। এই ৯টি ব্যাংকের মধ্যে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত, একটি বিশেষায়িত, দুইটি বেসরকারি এবং পাঁচটি বিদেশি ব্যাংক অন্তর্ভুক্ত।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা বিডিবিএল, বিশেষায়িত খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বা রাকাব, বেসরকারি খাতের পদ্মা ব্যাংক পিএলসি ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংক এবং বিদেশি খাতের আল ফারাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ও উরি ব্যাংক লিমিটেডে কোনো রেমিট্যান্স এদিন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়নি। অর্থাৎ এই ব্যাংকগুলোতে বিদেশি অর্থপ্রবাহের কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি, যা বিশেষভাবে অর্থনীতির নজরকাড়া দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ফেব্রুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২০ কোটি ৩৭ লাখ ১০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২০ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ৯৪ কোটি ৬ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে ২২ লাখ ৪০ হাজার ডলার। অর্থাৎ মোট রেমিট্যান্সের বেশিরভাগ প্রবাহ বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে।
এর আগে জানুয়ারি মাসে দেশে এসেছে ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ও চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এছাড়া গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, যা ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এক মাসে প্রাপ্ত প্রবাসী আয় হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছিল। আর গত নভেম্বরে দেশে এসেছে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।
ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহের এই অবস্থা অর্থনীতিবিদদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কিছু ব্যাংকে রেমিট্যান্সের প্রবাহ শূন্য থাকায় ব্যবসায়ী, রেমিট্যান্স গ্রহীতারা এবং অর্থনীতিতে অবদান রাখা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষভাবে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। আর্থিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমের দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সেবা এবং প্রবাসী গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগের উপরও নির্ভর করছে।
দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, পরিবারের অর্থনৈতিক সহায়তা, বিনিয়োগ ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য অপরিহার্য। গত অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার, যা কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হিসেবে ইতিহাসে নথিভুক্ত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেমিট্যান্সের এমন ধারা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক। তবে কিছু ব্যাংকে রেমিট্যান্স না আসা বড় ধরনের সতর্কবার্তা বহন করে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ব্যাংকগুলোর আন্তঃব্যাংক যোগাযোগ, ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা, রেমিট্যান্স গ্রাহকদের তথ্য সরবরাহ এবং প্রক্রিয়া সহজীকরণ আরও উন্নত করা প্রয়োজন।
এবারের ফেব্রুয়ারির এই অবস্থা সরকারের জন্যও একটি দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের মোট রেমিট্যান্স প্রবাহে কোনো ধরণের ব্যাঘাত বা বিলম্ব ঘটলে তা শুধু ব্যাংক নয়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমকেও প্রভাবিত করতে পারে। সুতরাং সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোর কার্যকারিতা ও প্রবাসী খাতের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত। ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাহিত রেমিট্যান্স ঘরে, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এই প্রথম দুই সপ্তাহে কিছু ব্যাংকে রেমিট্যান্স না আসা বিষয়টি দেশের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ এবং রেমিট্যান্স নীতিমালার উন্নয়নের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবেই ধরা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ তুলনামূলকভাবে উল্লেখযোগ্য হলেও, কিছু ব্যাংকে শূন্য প্রবাহ দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন প্রেক্ষাপট উন্মোচন করেছে। এতে প্রবাসীদের আর্থিক কার্যক্রম, ব্যাংকিং খাত এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।