মিটফোর্ডে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামি মাহিন পুনরায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ২৮ বার
মিটফোর্ডে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামি মাহিন পুনরায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসান মাহিনকে আরও পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্তের অগ্রগতির জন্য দ্বিতীয় দফায় এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমান।

মঙ্গলবার দুপুরে পাঁচ দিনের প্রথম দফার রিমান্ড শেষে মাহিনকে আদালতে হাজির করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা ওসি মনিরুজ্জামান মামলার স্বার্থে তাকে আরও ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতে হাজিরার সময় আসামি পক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

এই হত্যাকাণ্ড ইতোমধ্যে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ৯ জুলাই সকালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মূল ফটকের কাছে জনসম্মুখে ভয়ঙ্করভাবে খুন হন সোহাগ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হত্যাকারীরা সোহাগকে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে, এরপর তাকে ঘিরে ধরে পিটিয়ে এবং পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা সোহাগকে ঘিরে মুহূর্তেই জমে যায় জনতা, যারা হতবাক হয়ে এই ভয়ংকর দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন।

ঘটনার পর নিহত সোহাগের বড় বোন কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। একইসঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

এখন পর্যন্ত আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর মধ্যে মাহিনকে ঘটনাটির মূল পরিকল্পনাকারী এবং নেতৃত্বদানকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, সোহাগের সঙ্গে আগে থেকেই বিরোধ ছিল মাহিনের, যা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল পটভূমি হিসেবে কাজ করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

মামলার তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা আশা করছেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও অন্যান্য সহযোগীদের নাম দ্রুত প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের গেটের সামনে এমন একটি ঘটনার মাধ্যমে নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। জনসমক্ষে দিনের আলোয় একজন ব্যবসায়ীকে এমন নিষ্ঠুরভাবে হত্যা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতি গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। নিহত সোহাগের পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে।

সোহাগ হত্যাকাণ্ড ঘিরে এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মিটফোর্ড ও আশপাশের এলাকায় পুলিশি টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার এবং ন্যায়বিচারের মাধ্যমে নিহত সোহাগের পরিবার যেন অন্তত ন্যায্যতা পায়—এটাই এখন এলাকাবাসীরও একমাত্র প্রত্যাশা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত