বিদেশ ফেরার সময় শুল্ক দিয়ে আনা যাবে কোন পণ্যগুলো

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৭ বার
বিদেশ ফেরার সময় শুল্ক দিয়ে আনা যাবে কোন পণ্যগুলো

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সময় প্রিয়জনের জন্য নানা ধরনের উপহার নিয়ে আসার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের জন্য সরকার শুল্ক ও ব্যাগেজ নিয়মের মাধ্যমে সহজ সুবিধা রেখেছে। দেশের বাইরে থেকে আসা যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন গৃহস্থালি, ইলেকট্রনিক ও মূল্যবান পণ্য শুল্ক-কর পরিশোধের মাধ্যমে আনা সম্ভব, যা অতীতে অনেকেই জানতেন না বা সচেতন ছিলেন না। বর্তমানে এই ব্যাগেজ রুল অনুযায়ী, টেলিভিশন, মিউজিক সিস্টেম, রেফ্রিজারেটর, ডিপ ফ্রিজার, এয়ার কুলার, এয়ার কন্ডিশনার, ডিশ অ্যানটেনা, সোনার বার, রূপার বার, ডিএসএলআর ক্যামেরা, ঝাড়বাতি, ওয়াশিং মেশিন এবং এয়ারগানসহ মোট ১১ প্রকার পণ্য শুল্ক-কর পরিশোধের মাধ্যমে দেশে আনা যায়।

টেলিভিশন আনার ক্ষেত্রে শুল্কের পরিমাণ ও সীমা পণ্যের আকার অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ৩০ ইঞ্চি পর্যন্ত এলইডি, প্লাজমা বা এলসিডি টেলিভিশন বিনা শুল্কে আনা যাবে। তবে ৩০ থেকে ৩৬ ইঞ্চির টিভি আনলে ১০ হাজার টাকা, ৩৭ থেকে ৪২ ইঞ্চি হলে ২০ হাজার টাকা, ৪৩ থেকে ৪৬ ইঞ্চি হলে ৩০ হাজার টাকা, ৪৭ থেকে ৫২ ইঞ্চি হলে ৫০ হাজার টাকা এবং ৫৩ থেকে ৬৫ ইঞ্চি হলে ৭০ হাজার টাকা শুল্ক দিতে হবে। ৬৫ ইঞ্চির বেশি টেলিভিশন আনার ক্ষেত্রে শুল্ক বসবে ৯০ হাজার টাকা।

মিউজিক সিস্টেম বা হোম থিয়েটার আনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক স্পিকার (চার থেকে আট) নিয়ে আসার অনুমতি আছে এবং শুল্ক পরিমাণ ৮ হাজার টাকা। বিদেশ থেকে রেফ্রিজারেটর ও ডিপ ফ্রিজার আনার জন্য ৫ হাজার টাকা শুল্ক বসবে। এয়ার কুলার ও এয়ার কন্ডিশনারের ক্ষেত্রে উইন্ডো টাইপের এসি হলে ৭ হাজার টাকা, স্প্লিট টাইপ (১৮০০০ বিটিইউ পর্যন্ত) ১৫ হাজার টাকা এবং ১৮০০০ বিটিইউয়ের বেশি হলে ২০ হাজার টাকা শুল্ক দিতে হবে।

ডিশ অ্যানটেনা আনার জন্য নির্ধারিত শুল্ক ৭ হাজার টাকা। সোনার বার বিদেশ থেকে আনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি করে বার বছরে একবার আনা যাবে এবং প্রতি ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম প্রতি ৫ হাজার টাকা শুল্ক দিতে হবে। রূপার বার আনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৩৪ গ্রাম ওজনের একটি বার আনা যাবে এবং প্রতি ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম প্রতি ৬ টাকা শুল্ক প্রদান করতে হবে।

ডিএসএলআর ক্যামেরা, মিররলেস ক্যামেরা, ইন্টারচেঞ্জেবল লেন্সসহ অন্যান্য ক্যামেরা আনার জন্য শুল্ক নির্ধারিত আছে ১৫ হাজার টাকা। ঝাড়বাতি আনার ক্ষেত্রে প্রতি পয়েন্টের জন্য ৩০০ টাকা শুল্ক দিতে হয়। বিদেশ থেকে ওয়াশিং মেশিন বা ডিশওয়াশার, ক্লথ ড্রায়ার আনার ক্ষেত্রে শুল্ক ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে এয়ারগান আনা যাবে এবং এর জন্য ৫ হাজার টাকা শুল্ক দিতে হবে।

এই ব্যাগেজ রুল প্রবাসীদের জন্য বিদেশ থেকে বড় গৃহস্থালি পণ্য দেশে আনার ক্ষেত্রে সহজ সুযোগ তৈরি করেছে। তবে সরকারি বিধি অনুযায়ী শুল্ক পরিশোধের সঙ্গে সঙ্গে নির্ধারিত শর্তগুলো মানা অত্যন্ত জরুরি। প্রবাসীরা ব্যাগেজে শুল্ক-কর পরিশোধ করে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন এবং তা না মানলে সেসব পণ্যের ক্ষেত্রে আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সরকার সময়ে সময়ে এই ব্যাগেজ রুলে সংশোধন আনে এবং যাত্রীদের জন্য সহজ শুল্ক নীতি প্রয়োগ করে থাকে। এই নিয়মের মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে এসে প্রিয়জনদের জন্য বৈদেশিক দেশ থেকে আনা বিভিন্ন উপহার ও প্রয়োজনীয় জিনিস সহজেই আনতে সক্ষম হচ্ছেন। তাছাড়া এই সুবিধার মাধ্যমে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সময় প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি পণ্য আনা এখন অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক হয়েছে।

ব্যাগেজ রুলে অন্তর্ভুক্ত পণ্যগুলোর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, মিউজিক সিস্টেম, ডিএসএলআর ক্যামেরা ও এয়ার কন্ডিশনার। এসব পণ্যের শুল্ক পরিমাণ তাদের আকার, ক্ষমতা এবং প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়েছে। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের সুবিধার কথা ভেবে সরকার নির্ধারিত সীমার মধ্যে শুল্ক দিয়ে এগুলো আনার অনুমতি দিয়েছে।

এই সুবিধার উদ্দেশ্য হলো প্রবাসীরা বিদেশ থেকে দেশে আসার সময় নিজেদের প্রিয়জনদের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনতে সক্ষম হোন এবং দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়াতে সহায়তা করা। এছাড়াও, এই নীতি দেশের আইনানুগ সীমার মধ্যে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করে।

যারা বিদেশ থেকে দেশে বড় ধরনের গৃহস্থালি পণ্য বা প্রযুক্তি সামগ্রী আনতে চান, তাদের উচিত প্রয়োজনীয় শুল্ক-কর যথাযথভাবে পরিশোধ করা এবং দেশের ব্যাগেজ রুল অনুসরণ করা। এতে করে আইনগত ঝামেলা এড়ানো সম্ভব হবে। এই রুল প্রবাসীদের জন্য বিদেশ থেকে দেশে আসার সময় সুবিধা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এসব নিয়ম অনুসরণ করে প্রবাসীরা বড় ধরনের বৈদেশিক পণ্য দেশের বাজারে আনতে পারেন, যা ব্যক্তিগত ব্যবহারের পাশাপাশি প্রিয়জনদের জন্য উপহার হিসেবেও দেওয়া সম্ভব। সরকারের এই উদ্যোগ প্রবাসীদের বিদেশ থেকে দেশে আসা আরও সহজ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহায়ক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত