খুবিতে ‘মাইন্ড দ্য হ্যাক’ গ্র্যান্ড ফিনাল সম্পন্ন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৯ বার
খুবিতে ‘মাইন্ড দ্য হ্যাক’ গ্র্যান্ড ফিনাল সম্পন্ন

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ক্যারিয়ার ক্লাব আয়োজিত উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও কৌশলভিত্তিক প্রতিযোগিতা ‘মাইন্ড দ্য হ্যাক’-এর দ্বিতীয় সংস্করণের গ্র্যান্ড ফিনাল সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন এবং চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ দলগুলো তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, কৌশল এবং বাস্তবসম্মত সমাধান উপস্থাপন করেন।

উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব ও বিশ্লেষণী দক্ষতা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গ্র্যান্ড ফিনালের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কেবল তাদের ধারণা উপস্থাপন করেন না, বরং তা বাস্তবায়নযোগ্যতার দিক থেকেও মূল্যায়নের সুযোগ পান। বিজয়ী দল হিসেবে ‘ডুইং ইট ফর দ্য প্লট’ নামের দল পরিচিতি অর্জন করেছে। এছাড়া প্রথম রানার-আপ হিসেবে উঠে এসেছে ‘ব্যাড আর-ও-আই’, এবং উদীয়মান মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘এমার্জিং টিম অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করে ‘টিম এজ’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নুরুন্নবী। গ্র্যান্ড ফিনালের বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নুরুন্নবী, সিটি ব্যাংকের এরিয়া হেড ও ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হিমাদ্রি শেখর, এবং ক্যাডারসের কোয়ালিটি অডিট অফিসার মো. আকিবুর রাহাত জিম। বিচারকরা প্রতিটি দলের উপস্থাপনা গভীরভাবে মূল্যায়ন করেন এবং শিক্ষার্থীদের ধারণা, কৌশল ও বাস্তবায়নযোগ্যতা বিষয়ে গঠনমূলক পরামর্শ প্রদান করেন।

উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তার বক্তব্যে বলেন, “চাকরির বাজারে শুধু জিপিএ দিয়ে চাকরি পাওয়া যায় না। জিপিএ কেবল একটি ন্যূনতম মানদণ্ড। চাকরির বাজার জয় করতে হলে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, কথাবলা, আই কন্টাক্ট এবং জ্ঞানগত গভীরতা থাকতে হবে। আমরা যদি মেধাকে অগ্রাহ্য করি, তাহলে দেশ পিছিয়ে পড়বে। অতীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়োগের উদাহরণ আমাদের দেখিয়েছে এটি কতটা ক্ষতিকর হতে পারে।” তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা উৎসাহিত হয়ে ওঠেন, যাতে তারা কেবল শিক্ষাগত মানদণ্ডের ওপর নির্ভর না করে প্র্যাকটিক্যাল দক্ষতাও অর্জন করতে পারে।

ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নুরুন্নবী ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ ও প্রতিযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “অনেকে মনে করেন, যারা ব্যবসায় শিক্ষা গ্রহণ করে তারা শুধু ভালো ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে। এটি সম্পূর্ণ ভুল। ব্যবসা মানে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার। প্রতিযোগিতা না থাকলে ব্র্যান্ডিং পার্থক্য প্রয়োজন হয় না, কারণ বাজার তখনই গড়ে ওঠে, যখন সেখানে প্রতিযোগিতা থাকে।” তার বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌশলগত চিন্তা ও সৃজনশীল উদ্যোগের গুরুত্ব পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয়।

প্রতিযোগিতার আয়োজন সম্পর্কে ক্যারিয়ার ক্লাবের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি কেবল একটি সমাপনী অনুষ্ঠান নয়; বরং তরুণ মেধার সৃজনশীলতা ও নেতৃত্ব যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। অংশগ্রহণকারীরা উদ্ভাবনী চিন্তা, যুক্তিভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের মাধ্যমে ভবিষ্যতের উদ্ভাবনী যাত্রার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ পান। গ্র্যান্ড ফিনালের সমাপনী অনুষ্ঠানে বিচারকরা অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এমন আয়োজনের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রেজেন্টেশন, ব্যবসায়িক কৌশল এবং বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা প্রদর্শন করেন। বিচারকরা প্রতিটি দলের উপস্থাপনা খুঁটিয়ে মূল্যায়ন করেন এবং দলের ধারণা, ব্যবসায়িক দিকনির্দেশনা ও কার্যকারিতার উপর ভিত্তি করে পরামর্শ প্রদান করেন। এই গঠনমূলক মতামত শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সহায়তা করে।

উপাচার্য ও বিচারকরা উভয়েই শিক্ষার্থীদের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন যে, জ্ঞান ও দক্ষতার সঙ্গেই উদ্ভাবনী মনোভাব থাকা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা যদি কেবল পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে বাস্তব জীবনের জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান ও ব্যবসায়িক কৌশল প্রয়োগ করার সুযোগ করে দিয়েছে।

মিডিয়া পার্টনার হিসেবে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছে দৈনিক কালের কণ্ঠ, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস, কালবেলা, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। তাদের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার সঠিক খবর দ্রুত শিক্ষার্থীদের, অভিভাবক এবং শিক্ষাবিদদের কাছে পৌঁছেছে।

গ্র্যান্ড ফিনাল শুধুমাত্র প্রতিযোগিতার বিজয়ী দল নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা, দলবদ্ধ কাজের মানসিকতা এবং ব্যবসায়িক নেতৃত্বের দক্ষতা উদ্দীপ্ত করেছে। অংশগ্রহণকারীরা কেবল তাদের আইডিয়া উপস্থাপন করেছেন না, বরং বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা, ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের দিকেও মনোযোগ দিয়েছেন।

সংক্ষেপে বলা যায়, ‘মাইন্ড দ্য হ্যাক’ প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের জন্য এক সৃজনশীল, শিক্ষণীয় এবং উদ্ভাবনী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। এটি তাদের বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধি করেছে এবং ভবিষ্যতের উদ্যোক্তা ও নেতৃত্বের পথ প্রশস্ত করেছে। শিক্ষার্থীরা শিখেছেন কেবল জ্ঞান নয়, প্র্যাকটিক্যাল দক্ষতা, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা এবং দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শের মাধ্যমে কিভাবে বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত