প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন না। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবনের আশপাশে সাংবাদিকদের জানান, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংশোধনী বিষয়ক পরিষদে শপথ নেবেন না। তবে সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর এ বিষয়ে পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকতে পারে।
সালাহউদ্দিন বলেন, সাংবিধানিকভাবে একজন সংসদ সদস্যের দুটি ম্যান্ডেট রয়েছে। একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের, আর অন্যটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে শপথ গ্রহণ করানোর প্রক্রিয়া দেখছে। তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ পাঠ করানোর বিষয়টি তখনই করা যাবে যখন সংশোধনী সম্পর্কিত বিষয়গুলো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।
তিনি জানান, সংবিধান অনুযায়ী শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের ওপর নির্ভরশীল। যদি তারা উপস্থিত না থাকেন, অপারগ হন বা তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধি না থাকে, সেই ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ করাবেন। সালাহউদ্দিন আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনী সম্পন্ন হওয়ার পর যদি সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং দ্বিতীয় তফসিলে শপথের বিস্তারিত নিয়ম নির্ধারিত হয়, তখনই এ শপথ গ্রহণের আয়োজন করা হবে।
এমপি সালাহউদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপি সাংবিধানিক নিয়মকানুনকে সম্মান জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ প্রক্রিয়া পুরোপুরি নীতিগত এবং সাংবিধানিক নির্ভরশীল। তিনি আরও বলেন, শপথ নেওয়ার বিষয়টি নির্দিষ্ট সংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হবে, তাই দলের পক্ষ থেকে এখনই তা গ্রহণ করা সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই সিদ্ধান্ত একটি রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। সংবিধান সংশোধনী ও সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়া দলকে রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন ও শক্তিশালী অবস্থান বজায় রাখতে সহায়তা করবে। এতে সংসদে নবনির্বাচিত সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা ও রাজনৈতিক প্রভাবের সমন্বয় আরও সুসংগত হবে।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, সংবিধান সংশোধনীসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনগত ও প্রক্রিয়াগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা হবে। সংবিধান ও সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাবেন। তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ গ্রহণের বিষয়টি সংসদে সমস্ত বিষয় ও নিয়মকানুন চূড়ান্ত হওয়ার পরেই কার্যকর হবে।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত দলের নীতিমালা, সাংবিধানিক নিয়ম এবং সংসদ কার্যপ্রণালীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দল এই বিষয়টি নিয়ে যথাযথ পর্যালোচনা করেছে এবং সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রাখছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ার এই পদক্ষেপ বিএনপির মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার একটি প্রচেষ্টা। একই সঙ্গে এটি সংসদে দলের প্রভাব ও নীতি-নির্ধারণের ক্ষেত্রে দলকে রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে রাখতে সাহায্য করবে।
সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া এসেছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম ও অন্যান্য জোট অংশীদাররা বিষয়টি নিয়ে পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিপন্থিতা রোধ করা বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।
সংবিধান সংশোধনী বিষয়ক পরিষদে শপথ গ্রহণ না নেওয়া হলেও সংসদ সদস্য হিসেবে নবনির্বাচিত এমপিরা ইতিমধ্যেই দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সংসদীয় কার্যক্রমে দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।