প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চলতি অর্থবছরে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ফলে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এ কথা জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে পবিত্র রমজান উপলক্ষে টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব তথ্য জানান।
উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সরকারকে আর টিসিবির জন্য ভর্তুকি দিতে হবে না। এটি আমাদের জন্য বড় অর্জন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে টিসিবির পণ্যের তালিকায় সাবান, চা সহ আরও কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যুক্ত হবে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বিশেষভাবে উপকারে আসবে।”
এবার টিসিবির রমজান ট্রাকসেল কার্যক্রম ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত চলবে, শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনগুলো বাদে মোট ২০ দিন। টিসিবি জানিয়েছে, প্রতিদিন প্রতিটি ট্রাকে প্রায় ৪০০ জন নিম্নআয়ের মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি করা হবে। সারাদেশে এই কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ লাখ মানুষের কাছে মোট ২৩ হাজার টন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়া হবে।
ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুর বিক্রি করা হবে। বিশেষ করে রমজানের দুটি পণ্য ছোলা প্রতি কেজি ৬০ টাকা এবং খেজুর ১৬০ টাকা দরে সরবরাহ করা হবে। এছাড়া ভোজ্যতেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, চিনি ৮০ টাকা এবং মসুর ডাল ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হবে। প্রতিদিন একজন ভোক্তা সর্বাধিক দুই লিটার তেল, এক কেজি চিনি, দুই কেজি ডাল, এক কেজি ছোলা এবং বরাদ্দ সাপেক্ষে এক থেকে দুই কেজি খেজুর কিনতে পারবেন।
টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্য নিয়মিত বিক্রি কার্যক্রমও অপরিবর্তিত থাকবে। কার্ডধারী পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে প্রতি মাসে ভোজ্যতেল, চিনি এবং মসুর ডাল বিক্রি করা হবে। এছাড়া রমজানে বিশেষভাবে ছোলা ৬০ টাকা এবং খেজুর ১৬০ টাকা দরে প্রদান করা হবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রতিদিন ৫০টি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ২০টি এবং ৭টি অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৫টি করে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য বিক্রি করা হবে। বাকি ৫৫ জেলায় প্রতিজেলায় ৫টি করে মোট ৪৫০টি ট্রাকে এই কার্যক্রম চলবে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “টিসিবি যদি স্বচ্ছ ও জবাবদিহি নীতি অনুসরণ করে, তাহলে সাশ্রয় শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং সামাজিক দিক থেকেও তা লক্ষ্যনীয়। সাধারণ মানুষ এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে পণ্য পাচ্ছে, যা রোজার সময় তাদের দৈনন্দিন জীবনে বিশেষ সুবিধা প্রদান করছে। এটি সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
তিনি আরও বলেন, “টিসিবির কার্যক্রম শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতেও টেকসই হবে। সাশ্রয় ও স্বচ্ছতার ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে সরকারকে টিসিবির জন্য আর কোনো ভর্তুকি দিতে হবে না। এটি আমাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য।”
টিসিবির এই কার্যক্রমে সাধারণ মানুষ যেমন উপকৃত হচ্ছে, তেমনি এটি সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে সহায়ক প্রমাণিত হচ্ছে।
উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “আমরা চাই সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি সহায়তা থেকে পুরোপুরি সুবিধা পেতে পারেন। প্রতিটি ট্রাকে বিক্রি কার্যক্রমের মান বজায় রাখা, সঠিক পরিমাণে পণ্য সরবরাহ এবং ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা আমাদের মূল লক্ষ্য। এটি ভোক্তাদের আস্থা বাড়াচ্ছে এবং বাজারে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করছে।”
টিসিবির এই উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। ট্রাকসেল কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষ কম দামে প্রয়োজনীয় পণ্য পাচ্ছে, যা বিশেষ করে রমজানের সময় তাদের জীবনে বড় স্বস্তি ও সহায়তা প্রদান করছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন আরও আশা প্রকাশ করেন যে, টিসিবি যদি আগামী দিনগুলোতেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতি অবলম্বন করে, তাহলে এই ধারা বাংলাদেশের নীতি-নির্ধারকদের জন্য এক শক্তিশালী দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।
টিসিবির কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা ও জনসাধারণের প্রয়োজন মেলাতে সরকারের উদ্যোগ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। স্বচ্ছতা ও সাশ্রয় নিশ্চিত করে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে, যা দেশের জন্য এক উল্লেখযোগ্য অর্জন।