দাম কমে আজ স্বর্ণ বিক্রি কত টাকায় জানুন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ বার
দাম কমে আজ স্বর্ণ বিক্রি কত টাকায় জানুন

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও এলো স্বস্তির খবর। টানা মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতার মধ্যে হঠাৎ করেই স্বর্ণের দাম কমায় কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে যারা বিয়ে বা বিশেষ প্রয়োজনে স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের জন্য এই মূল্যহ্রাস একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে এসেছে। সবশেষ সমন্বয়ের পর আজ বুধবার দেশের বাজারে নতুন নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে এই মূল্যবান ধাতু।

দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমার প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারেও স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকালে প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক ধাপে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে, যা আজও বহাল রয়েছে।

নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে এখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকায়।

তবে এই দামই চূড়ান্ত নয়। স্বর্ণের এই মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত হবে। ফলে গহনার ডিজাইন, কারুকাজ ও মানভেদে প্রকৃত ক্রয়মূল্য আরও কিছুটা বাড়তে পারে। অর্থাৎ, দোকানে গিয়ে গহনা কিনতে গেলে ক্রেতাদের ঘোষিত দামের চেয়ে কিছুটা বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে।

স্বর্ণের দাম কমার এই সিদ্ধান্ত দেশের বাজারে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ২৯ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ বার দাম বেড়েছে এবং ১১ বার কমানো হয়েছে। যা থেকে বোঝা যায়, স্বর্ণের বাজার এখনো অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে ২০২৫ সালে দেশের স্বর্ণবাজারে মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং মাত্র ২৯ বার কমেছিল। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখায়, দীর্ঘ সময় ধরে স্বর্ণের বাজার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যেই ছিল। ফলে সাম্প্রতিক এই মূল্যহ্রাস ক্রেতাদের কাছে কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় বাজারের চাহিদা—সবকিছু মিলিয়েই দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার প্রভাব কিছুটা সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারেও পড়ে।

স্বর্ণের দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা। ১৮ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ১৯০ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৯০৭ টাকায়।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত রুপার দাম মোট ১৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছে এবং ৭ বার কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মোট ১৩ বার। এর মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং মাত্র ৩ বার কমেছিল।

স্বর্ণের বাজারে এই ওঠানামার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বর্ণ কেনা এখন অনেকটাই কঠিন হয়ে উঠেছে। আগে যেখানে বিয়ের মৌসুমে স্বর্ণ কেনা ছিল একটি সাধারণ বিষয়, এখন তা অনেকের জন্য আর্থিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজধানীর কয়েকটি স্বর্ণের দোকান ঘুরে ব্যবসায়ীরা জানান, দাম কমলে ক্রেতার সংখ্যা কিছুটা বাড়ে। তবে সামগ্রিকভাবে স্বর্ণের উচ্চমূল্যের কারণে আগের মতো বিক্রি হচ্ছে না। অনেক ক্রেতা প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অপেক্ষা করছেন, যদি দাম আরও কমে।

অন্যদিকে ক্রেতারাও বলছেন, স্বর্ণের দাম এত বেশি যে সামান্য কমলেও তা খুব বেশি স্বস্তি দেয় না। তবুও যারা কিনতেই হবে, তারা এই সুযোগে কিছুটা কম দামে কিনতে পারছেন।

স্বর্ণ শুধু অলংকার হিসেবেই নয়, বরং একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবেও বিবেচিত হয়। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে অনেকেই স্বর্ণে বিনিয়োগ করেন। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বর্ণের মূল্য সাধারণত বাড়ে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে বা কমতে পারে। তাই যারা স্বর্ণ কিনতে চান, তাদের বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, দেশের স্বর্ণবাজারে সাম্প্রতিক এই মূল্যহ্রাস কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও বাজার এখনো অস্থির। ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয়েই এখন অপেক্ষা করছেন, ভবিষ্যতে দাম কোন দিকে যায়। কারণ স্বর্ণের বাজারের এই ওঠানামা শুধু অর্থনীতির নয়, মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত