আক্কেলপুরে সড়ক কাজের জন্য ফসলি জমি কাটা নিয়ে সমস্যা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪ বার
আক্কেলপুরে সড়ক কাজের জন্য ফসলি জমি কাটা নিয়ে সমস্যা

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে সড়ক সম্প্রসারণ ও পাকাকরণের কাজে স্থানীয় কৃষকদের ফসলি জমি কেটে নেওয়া নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আক্কেলপুর জিসি-আদমদীঘি ভায়া ভানুকান্দা-কাশিড়া সড়কের ১২ কিলোমিটার অংশে চলমান প্রকল্পের কাজের সময়ে সড়কের দুই পাশে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি কেটে মাটি নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং সড়কের ধসের ঝুঁকি তৈরি হবে।

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হঠাৎ করেই ভেকু দিয়ে সড়কের দুই পাশে চার থেকে পাঁচ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মাটি সংগ্রহ শুরু করেছে। সরকারি প্রকল্পে বাধা দিতে পারার মতো অবস্থায় না থাকার কারণে তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারেননি। তারাও অভিযোগ করেছেন যে, জমি কাটা এবং মাটি সংগ্রহের আগে তাদের লিখিত সম্মতি নেয়া হয়নি এবং ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত কোনো আলোচনা হয়নি। কাশিড়া গ্রামের সন্তোষ চন্দ্র মালী বলেন, “সড়কের পাশে আমার দুই শতক আবাদি জমি চার ফুট গভীর করে খুঁড়ে মাটি নেওয়া হয়েছে। এতে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।”

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রকল্পের আওতায় ১২ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ এবং দুই পাশে তিন ফুট করে প্রশস্ত করার কাজ করছে। প্রকল্পের চুক্তিমূল্য প্রায় ১৬ কোটি ৭১ লাখ ৬২ হাজার টাকা। ২০২৪ সালের ১০ জুন কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়মতো শেষ হয়নি, ফলে সময় বাড়ানো হয়েছে। বর্ধিত সময় অনুযায়ী আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

কৃষক ইউনুস আলী জানান, সড়কের দুই পাশে এভাবে ফসলি জমি কাটা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জমির উর্বরতা ক্ষুণ্ণ করতে পারে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, বর্ষা মৌসুমে জমি পানিতে ডুবে যাবে এবং দীর্ঘদিন অনাবাদি হয়ে যাবে। একই সঙ্গে সড়কের ধসে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জুয়েল ইলেকট্রনিক্সের ব্যবস্থাপক মো. মাহিম জানান, সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় মাটির ৬০ শতাংশ সড়কের পাশ থেকে নেওয়া হবে এবং বাকি ৪০ শতাংশ বাইরে থেকে সংগ্রহ করা হবে। তিনি দাবি করেছেন, যেভাবে মাটি নেওয়া হয়েছে তা ফসলি জমির স্থায়ী ক্ষতি করবে না। তিনি নিম্নমানের ইটের খোয়ার ব্যবহার এবং সড়কের গুণগতমান নিয়ে অভিযোগও অস্বীকার করেছেন।

জয়পুরহাটের এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, প্রকল্প অনুযায়ী সড়ক প্রশস্তকরণ ও পাকাকরণ করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সড়কের পাশ থেকে মাটি সংগ্রহ করা বেশিরভাগ প্রকল্পেই প্রচলিত পদ্ধতি। যদিও কিছু ক্ষেত্রে সামান্য ক্ষতি হতে পারে, তা প্রকল্পের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়।

গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেছেন, সড়ক প্রশস্তকরণের কাজে ফসলি জমি কেটে মাটি নেওয়া নিয়মবহির্ভূত। জমির মালিকেরা তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি যথাযথভাবে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

স্থানীয়রা মনে করছেন, সড়ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ হলেও ফসলি জমির প্রতি যথাযথ মনোযোগ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা উচিত। বর্ষা মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত জমি ফসলের উৎপাদন ও কৃষকের জীবিকা প্রভাবিত করতে পারে। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নকারীদের দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

প্রকল্পের দ্রুত সমাধান ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে কৃষকদের দাবি, স্থানীয় প্রশাসন ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কৃষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রকল্পের মান ও ফসলি জমির নিরাপত্তা একসাথে নিশ্চিত করার মাধ্যমে সড়ক উন্নয়নের সুফল পুরো এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব।

সড়ক প্রশস্তকরণের এই কাজ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গুরুত্ব বহন করে। এটি এলাকার যাতায়াত, যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে উন্নত করার পাশাপাশি কৃষি অঞ্চলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তবে জমি কেটে মাটি নেওয়ার বিষয়ে সময়মতো কৃষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় না হলে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত