যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য: চীনের গোপন পারমাণবিক পরীক্ষা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪ বার
চীনের গোপন পরমাণু পরীক্ষার নতুন তথ্য প্রকাশ যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ২০২০ সালের জুন মাসে চীন একটি গোপন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষা চালিয়েছিল। খবরটি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এই তথ্যটি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নতুন গোয়েন্দা সূত্র থেকে এসেছে বলে জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সহকারী সচিব ক্রিস্টোফার ইয়াও ওয়াশিংটনে এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেন, কাজাখস্তানের একটি দূরবর্তী ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ২০২০ সালের ২২ জুন পশ্চিম চীনের লোপ নুর পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে প্রায় ৭২০ কিলোমিটার দূরে ২ দশমিক ৭৫ মাত্রার ভূকম্পন শনাক্ত করেছিল। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই সংকেত ভূমিকম্পের সঙ্গে মেলেনি এবং এটি একটি গোপন পারমাণবিক বিস্ফোরণের প্রমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ইয়াও বলেন, “এ ধরনের সংকেত শুধুমাত্র একটি পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষা করার সময়ই প্রত্যাশিত হয়। এটি সাধারণ খনিশিল্পে ব্যবহৃত বিস্ফোরণের সঙ্গে মেলে না। এছাড়া, আমাদের কাছে যা তথ্য এসেছে, তাতে এ ধরনের বিস্ফোরণ নিশ্চিতভাবেই চীনের পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “যদি এটি ভূমিকম্প হত, তাহলে তার ধরন ও সংকেত সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো।”

তবে পারমাণবিক বিস্ফোরণ শনাক্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা এখনও এই অভিযোগ নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ করতে পারেনি। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চীনের কোনো পারমাণবিক পরীক্ষার অভিযোগ সত্য হলে তার ওপর আরও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শুধুমাত্র ভূকম্পন পরিমাপের মাধ্যমে কোনো দেশ গোপনভাবে পারমাণবিক পরীক্ষা করেছে কিনা তা নিশ্চিত করা কঠিন।

এদিকে চীনের দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “চীনের পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের দাবি কেবল নিজেদের পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার অজুহাত তৈরির চেষ্টা মাত্র। চীন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

নিরপেক্ষ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের অভিযোগ কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সক্ষমতা এবং নিয়ন্ত্রণে সম্পর্কিত দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার একটি সংবেদনশীল বিষয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্যের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বিষয়টি গুরুতর আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।

পরমাণু শান্তি, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা নীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গোপন পারমাণবিক পরীক্ষার অভিযোগ শুধু চীন নয়, অন্যান্য শক্তিশালী দেশগুলোর প্রতিরক্ষা কৌশলকেও প্রভাবিত করতে পারে। এ ধরনের তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং পর্যবেক্ষকরা সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন তথ্য প্রকাশের ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের পারমাণবিক সক্ষমতা সংক্রান্ত তথ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে কাজ করবে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ও কূটনৈতিক আলোচনাকে প্রভাবিত করতে পারে।

এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবস্থাপনা এবং সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, গোপন পারমাণবিক পরীক্ষা সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক চেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত