প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আফগানিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি দেশটি শান্তির বাস্তবসম্মত এবং বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইসলামাবাদ নতুন করে সামরিক হামলা চালাতে দ্বিধা করবে না। তিনি বুধবার ফ্রান্স-২৪-কে জানান, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে কয়েকটি মধ্যস্থতাকারী দেশ সেতুবন্ধনের চেষ্টা করলেও তা ফলপ্রসু হয়নি।
গত বছরের অক্টোবরে আফগান সীমান্ত এলাকা থেকে পাকিস্তানের দিকে বিনা উস্কানিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর দুই দেশের সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ ঘটে, যা সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ায়। এ ঘটনায় ইসলামাবাদ বারবার আফগান প্রশাসনকে সতর্ক করেছে, কিন্তু আফগানিস্তান কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় পাকিস্তানকে সম্ভাব্য সামরিক প্রতিক্রিয়ার কথা ঘোষণা করতে বাধ্য হতে হয়েছে।
খাজা আসিফ বলেন, ‘কাবুল যদি শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পাকিস্তান আফগানিস্তানে নতুন হামলা চালাতে কোনো দ্বিধা রাখবে না। আমাদের দেশের নিরাপত্তা এবং সীমান্তরক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, আফগানিস্তান তাদের মাটিতে থাকা সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, জঙ্গি হামলার মাধ্যমে দেশটির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে এবং এটি ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ হিসেবে ভারত প্রভাবিত করছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক উত্তেজনার পটভূমিতেও আফগান সীমান্তে সমস্যা বাড়ছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত সামরিক উত্তেজনার পর থেকে ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লি সরাসরি বা পরোক্ষ যোগাযোগ বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ কাবুলের অক্ষমতার কারণে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা হুমকি আরও বেড়েছে।
খাজা আসিফ বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে কিছু বন্ধু দেশ আমাদের ও আফগানিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু এই প্রচেষ্টা কোনো ফলাফল বয়ে আনেনি। আফগানিস্তান তাদের মাটিতে অবস্থানরত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি।’ তিনি আরো যোগ করেন, পাকিস্তান তার দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
এসময় পাকিস্তান ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে খাজা আসিফ বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনিদের জন্য স্বাধীন আবাসভূমি নিশ্চিত হওয়ার পর বিবেচনা করা হতে পারে। তবে বর্তমানে পাকিস্তান শুধুমাত্র নিজের জাতীয় নিরাপত্তা এবং আফগানিস্তানের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে মনোযোগী।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক শান্তি বাহিনীতে অবদান রাখতে আগ্রহী থাকলেও পরিস্থিতি অনুকূল হতে হবে। খাজা আসিফ বলেন, ‘পরিস্থিতি অনুকূল হলে আমরা আন্তর্জাতিক শান্তি বাহিনীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অবদান রাখতে প্রস্তুত। তবে আফগানিস্তান যদি শান্তির বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়, তাহলে সীমান্ত রক্ষার জন্য যথাযথ ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া আমাদের কর্তব্য।’
বিশ্লেষকরা মনে করেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। সামরিক ও কূটনৈতিক এই উত্তেজনার কারণে ভবিষ্যতে সীমান্তে সংঘর্ষ, জঙ্গি হামলা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাকিস্তানের এই হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সন্ত্রাসবিরোধী এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য ইসলামাবাদ যে দৃঢ় অবস্থান নিল তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। পাশাপাশি আফগানিস্তান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এখন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।