প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষিত মাসব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে ঘিরে গোপালগঞ্জে চরম উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৬ জুলাই) সদর উপজেলার গান্ধীয়াশুর এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম রকিবুল হাসানের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। হামলার পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে এনসিপির পদযাত্রা শুরু হওয়ার আগে থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সদরে কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমনের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই নানা দিক থেকে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা শুরু হয়। গান্ধীয়াশুর এলাকায় ইউএনওর বহর স্থানীয় প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হয়। হামলাকারীরা গাড়িগুলো ঘিরে ফেলে, কিছু গাড়ির কাচ ভাঙচুর করে এবং ইউএনওর দেহরক্ষীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়।
ইউএনও এম রকিবুল হাসান জানান, “আমি নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে যাচ্ছিলাম। পথে হঠাৎই আমার বহরের ওপর হামলা হয়। যারা হামলা চালিয়েছে তারা রাজনৈতিকভাবে সংঘবদ্ধ ছিল এবং তাদের অনেকের মুখ ঢাকা ছিল।”
এদিকে, এর কয়েক ঘণ্টা আগে সদর উপজেলার উলপুর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ওসি মির মো. সাজেদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, “ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান পিয়ালের অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে পুলিশের গাড়িটি লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছোড়ে এবং পরে গাড়িটি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছেছে এবং অভিযান শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কারা জড়িত ছিল, তাদের শনাক্তের কাজ চলছে।”
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এসব ঘটনায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল এবং একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। তবে কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে।
এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, “বেশ কিছুদিন ধরে তাদের ঘোষিত পদযাত্রা কর্মসূচিকে বানচাল করতে পরিকল্পিতভাবে নানা জায়গায় হামলা চালানো হচ্ছে। গোপালগঞ্জ, বিশেষ করে সরকারদলীয় প্রভাবশালী নেতাদের এলাকা হওয়ায় এখানেই সহিংসতা সবচেয়ে বেশি হচ্ছে।”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের মধ্যে উত্তপ্ত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই সহিংসতা নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এনসিপির জুলাই পদযাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের বাধা, সরকার-সমর্থকদের হামলা এবং গণগ্রেফতারের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তারা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা রুখতে সরকার দলীয় কর্মীরা একের পর এক নৈরাজ্য চালাচ্ছে, যা শুধু গণতন্ত্রের জন্য নয়, দেশের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে।”
গোপালগঞ্জের ঘটনা এখন জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, সুশীল সমাজ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পরিস্থিতির উত্তরণে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
এদিকে, আগামী সপ্তাহে এনসিপির পরবর্তী কেন্দ্রীয় কর্মসূচি রয়েছে খুলনায়। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় প্রশাসন সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।