প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, গাজায় দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা ও শান্তি অর্জনের জন্য প্রথমে অবশ্যই ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটতে হবে। হামাসের এই বক্তব্য এসেছে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নবগঠিত শান্তি পর্ষদের উদ্বোধনী বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে। হামাসের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ইসরাইলি আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধ না করেই গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে না।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, গাজায় ইসরাইলি অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করাই প্রকৃত শান্তি ও স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত। হামাসের দাবি, মধ্যস্থতাকারী দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং ইসরাইলকে চুক্তি বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে। এই ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে গাজার মানুষের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “গাজার উপত্যকায় দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসরাইলি দখলদারিত্বে অবসান ঘটানো এবং ফিলিস্তিনিদের পূর্ণ অধিকার বাস্তবায়ন অপরিহার্য। বৈঠক আয়োজনের আগে যদি এই বাস্তবতা উপেক্ষা করা হয়, তাহলে শান্তির উদ্যোগ কার্যত অর্ধেক হিসেবে থেকে যাবে।” হামাসের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে যে, ফিলিস্তিনিদের দাবির প্রতি অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হামাসের এই অবস্থান মার্কিন নেতৃত্বাধীন শান্তি উদ্যোগের উপর চাপ সৃষ্টি করবে। ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থাকে সঠিক ও কার্যকর সমাধান বের করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে হামাস বিশেষভাবে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, গাজায় ইসরাইলি সেনা কর্মকাণ্ড ও অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়।
ফিলিস্তিনি জনগণ বহু বছর ধরে ইসরাইলি দখল ও অবরোধের মধ্যে বসবাস করছে। গাজার অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং মানবিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বারবার সতর্ক করে দিয়েছেন যে, অব্যবস্থাপনা ও জবরদস্তি ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। হামাসের বিবৃতিতে এটি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে এবং এক ধরনের প্রান্তিক চাপে পরিণত হয়েছে।
হামাসের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা যেন ইসরাইলকে দখলদারিত্ব ও অবরোধে বাধ্য না করে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের পথ সুগম করে। অন্যথায়, গাজায় জনগণের জীবন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিপন্ন হবে এবং শান্তি প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। হামাসের দৃষ্টিতে, এই মৌলিক বিষয়গুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক উদ্যোগ কার্যকর হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত শান্তি পর্ষদের উদ্বোধনী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এবং গাজার স্থিতিশীলতার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়। হামাসের পক্ষ থেকে যেসব শর্ত আরোপ করা হয়েছে, তা বৈঠকের মূল আলোচ্যসূচিতে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গাজার স্থিতিশীলতার জন্য হামাসের এই শর্ত আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের জন্য এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যে ধাপগুলো নেওয়া প্রয়োজন, তার মধ্যে প্রথমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ করা এবং ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা অন্যতম। হামাসের বার্তায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে যে, গাজায় শান্তি ও পুনর্গঠন কার্যকর করতে হলে সরাসরি ইসরাইলি কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা অপরিহার্য।
এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, মধ্যস্থতাকারী দেশ এবং মানবিক সংস্থাগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে তারা গাজার জনগণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং শর্ত অনুযায়ী শান্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তা নিশ্চিত করে। হামাসের এই পদক্ষেপ শুধু গাজার মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক সংকেত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।