সন্দ্বীপে মসজিদে ছাত্রশিবির নেতার ওপর হামলা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৩ বার
সন্দ্বীপে মসজিদে ছাত্রশিবির নেতার ওপর হামলা

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে একটি মসজিদ প্রাঙ্গণে পবিত্র তারাবির নামাজ শুরুর আগে স্থানীয় ছাত্রশিবিরের নেতাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা ঘটে শুক্রবার দিবাগত রাতে বাউরিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের জমির মাজির মসজিদে। আহত ব্যক্তি মো. জিহাদ বাউরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম জেলা আমির আলাউদ্দিন সিকদার এ ঘটনার জন্য স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারাবির নামাজ শুরুর সময় স্থানীয় জামালের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক মসজিদের প্রাঙ্গণ থেকে জিহাদকে জোরপূর্বক টেনে বের করে আনার পর বেধড়ক মারধর করে। হামলাকারীরা লাঠি, সোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে জিহাদকে গুরুতরভাবে আহত করে। ঘটনার পর স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু তাহের ও সদস্যসচিব আলমগীর হোসাইন ঠাকুর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় অ্যাডভোকেট আবু তাহের সংবাদিকদের বলেন, হামলাকারীরা বিএনপি বা অঙ্গসংগঠনের কেউ নয়। তিনি এসব দুর্বৃত্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

সন্দ্বীপ থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে তারা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। থানার কর্মকর্তারা এ বিষয়ে স্থানীয়দের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং মসজিদ প্রাঙ্গণে শান্তি বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, ধর্মীয় স্থানে এমন ধরনের সহিংসতা স্থানীয় শান্তি ও সামাজিক সমন্বয়কে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। ধর্মীয় প্রার্থনার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রত্যেক সামাজিক ও প্রশাসনিক কর্তব্য। স্থানীয় সমাজকর্মীরা দাবি করছেন, আক্রান্ত ব্যক্তির নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জনগণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অনেকেই সামাজিক নিরাপত্তা, রাজনৈতিক সহিংসতা ও ধর্মীয় স্থানের নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, শান্তি ও সহমর্মিতার পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি এবং রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিবাদ কখনো ধর্মীয় স্থানে আঘাত করা উচিত নয়।

পুলিশ ও প্রশাসন জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং যেকোনো ধরনের অশান্তি রোধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। স্থানীয় জনগণকে শান্ত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আহত ব্যক্তির চিকিৎসা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ধর্মীয় স্থানগুলোকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জন্য ব্যবহার করা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। তারা প্রশাসনকে সতর্ক থাকার এবং ধর্মীয় স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত