টি-টোয়েন্টিতে বাবর নিয়ে আখতারের প্রশ্ন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২২ বার
বাবর আজম

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পাকিস্তান ক্রিকেটে বাবর আজম এক উজ্জ্বল নাম। গত এক দশকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তিনি দেশের সেরা ব্যাটারদের কাতারে উঠে এসেছেন। টেস্ট ও ওয়ানডেতে তাঁর ক্লাসিক ব্যাটিং নিয়ে খুব কম প্রশ্নই ওঠে। তবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তাঁর কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর সেই বিতর্ক আবারও জোরালো হয়েছে।

এবারের আসরে তিন ম্যাচে মাত্র ৬৬ রান করেছেন বাবর। স্ট্রাইকরেট ছিল ১১৫-এর আশেপাশে। ফরম্যাটটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকদের একজন হলেও তাঁর সামগ্রিক স্ট্রাইকরেট ১২৮.১৮—যা আধুনিক টি-টোয়েন্টির মানদণ্ডে অনেকের চোখে কম। ভারতের বিপক্ষে পরাজয়ের পর সমালোচনার ঝড় ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে টিভি স্টুডিও—সবখানেই প্রশ্ন, বাবর কি টি-টোয়েন্টির জন্য যথেষ্ট আক্রমণাত্মক?

পাকিস্তানের সাবেক গতি তারকা Shoaib Akhtar এ বিষয়ে স্পষ্ট মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, বাবরের নিজেই বুঝে নেওয়া উচিত ছিল এই ফরম্যাট তাঁর স্বভাবসিদ্ধ নয়। এক ইউটিউব শোতে তিনি বলেন, যদি বাবরকে খেলাতেই হয়, তবে তাকে অবশ্যই প্রথম ছয় ওভারের মধ্যে ব্যাটিং করতে হবে। পাওয়ারপ্লের সুবিধা কাজে লাগাতে না পারলে দলের জন্য তাঁর উপস্থিতি কতটা ফলপ্রসূ, সে প্রশ্ন তুলেছেন আখতার।

আখতারের ভাষায়, বিষয়টি জটিল নয়। টি-টোয়েন্টিতে গতি ও ইমপ্যাক্টই মুখ্য। সেখানেই বাবরের ধীরগতির ইনিংস দলকে চাপে ফেলে বলে তাঁর মত। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে মাঝের ওভারগুলোয় রান তোলার গতি কমে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

এই বিতর্কে যুক্ত হয়েছেন আরেক সাবেক অধিনায়ক Mohammad Hafeez। তিনি কোচের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পাকিস্তান দলের কোচ Mike Hesson নাকি বলেছেন, বাবর এমন ব্যাটার নন যিনি পাওয়ারপ্লেতে সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে পারেন, আবার দশ ওভারের পর বড় শটেও পারদর্শী নন। হাফিজের প্রশ্ন, যদি এমন ধারণাই থাকে, তবে তাঁকে দলে রাখা হচ্ছে কেন?

এদিকে অনেক সমর্থক ও বিশ্লেষক মনে করেন, বাবরকে একমাত্র দায়ী করা ঠিক নয়। দলের ব্যাটিং কাঠামো, সাপোর্টিং ব্যাটারদের পারফরম্যান্স এবং কৌশলগত পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে বাবর একাদশে জায়গা পেলেও বৃষ্টি বাধায় ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়। ফলে তাঁর ফর্ম নিয়ে সরাসরি মূল্যায়নের সুযোগ মেলেনি।

টি-টোয়েন্টির বর্তমান ধারা বদলে গেছে দ্রুত। শুরু থেকেই আক্রমণ, বড় শট, উচ্চ স্ট্রাইকরেট—এসবই এখন সফলতার মাপকাঠি। বাবরের ব্যাটিং ধাঁচ বেশি ক্লাসিক, টাইমিং ও গ্যাপ খোঁজার ওপর নির্ভরশীল। অনেক সময় সেট হতে কয়েক ওভার নেন। এই পদ্ধতি টি-টোয়েন্টির তাড়াহুড়োর সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটাই মূল প্রশ্ন।

তবে পরিসংখ্যান বলছে, বাবর বহু ম্যাচে দলকে জিতিয়েছেন। ধারাবাহিকতা তাঁর বড় শক্তি। ফর্মের ওঠানামা যে কোনো ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারের অংশ। সমালোচনার মধ্যেও কোচিং স্টাফ তাঁর ওপর আস্থা রাখছেন।

পাকিস্তান দলে নতুন প্রজন্ম উঠে আসছে। শাহিন শাহ আফ্রিদি, শাদাব খানদের মতো খেলোয়াড়দের নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফলে শুধু একজনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়তো সমস্যার পূর্ণ সমাধান নয়।

শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে টিম ম্যানেজমেন্ট। বাবর নিজেও বুঝবেন কোন ভূমিকায় তিনি দলের জন্য বেশি কার্যকর। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে সময় কম, তাই দ্রুত ছন্দে ফেরা জরুরি। সমালোচনা যতই হোক, পাকিস্তান ক্রিকেটে বাবর আজম এখনও এক বড় নাম। এখন দেখার বিষয়, তিনি কি সমালোচনার জবাব ব্যাট দিয়েই দিতে পারেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত