প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
গোপালগঞ্জের রাজনীতিতে ফের উত্তাপ ছড়িয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র পূর্বঘোষিত সমাবেশকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে নির্মিত মঞ্চে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম স্থগিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে এই সহিংসতায় লিপ্ত হয়।
বিকেল নাগাদ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত মঞ্চে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই পৌর পার্কের বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে লাঠিসোটা, বাঁশ, রড ও দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘবদ্ধ হয়ে আসে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এই সময় তারা উন্মুক্ত মঞ্চে হামলা চালায়, চেয়ার-টেবিল ও সাজসজ্জা ভেঙে ফেলে, এবং একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ঘটনাস্থলে হুড়োহুড়ি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে একই জেলার সদর উপজেলার উলপুর ও গান্ধিয়াশুর এলাকায় পুলিশ ও ইউএনওর গাড়িতে হামলা এবং পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যার পেছনেও ছিল একই গোষ্ঠীর সদস্যরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তখনো স্পষ্ট কোনো পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি, যা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যেই গোপালগঞ্জ শহরে প্রবেশ করেছেন এবং পরিস্থিতি সত্ত্বেও তারা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলের মুখ্য সমন্বয়করা হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, গণতান্ত্রিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার জন্যই এ ধরনের বর্বরতা চালানো হয়েছে।
গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “সমাবেশকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা আগেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। জেলা শহরে পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যসহ ৬০০-এরও বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতি এখনো পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো অনভিপ্রেত ঘটনা ঠেকাতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা যদি প্রশাসনের চোখের সামনেই এমন সহিংসতায় লিপ্ত হয় এবং তাতে যদি তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিরোধ না আসে, তবে তা শুধু বিরোধী দল নয়— গোটা গণতন্ত্রের জন্যই অশনিসংকেত।
এদিকে সাধারণ জনগণের ভেতরে এই ঘটনায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে এ ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার কঠোর সমালোচনা করছেন এবং নির্বাচন কমিশনের নীরবতা ও প্রশাসনের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ বলছেন। এই পরিস্থিতিতে গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
এখন নজর রয়েছে বিকেল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এনসিপির সমাবেশ শেষপর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় কিনা, এবং প্রশাসন এ ব্যাপারে কী ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়— তার দিকে।