প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা এক সোচ্চার বার্তায় বলেছেন, “গোপালগঞ্জ সারা বাংলাদেশের। একে একক কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি বানানোর চেষ্টা কখনোই সফল হবে না।” তিনি এই বক্তব্য দেন বুধবার (১৬ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে, যেখানে তিনি সরাসরি ইঙ্গিত করেন গোপালগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ‘জুলাই পদযাত্রা’ বানচালের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার দিকে।
তাসনিম জারা তার বক্তব্যে জাতির ইতিহাস এবং বর্তমান সময়কে এক সূত্রে গাঁথেন। তিনি লেখেন, “‘৭১ আমাদের, ‘২৪-ও আমাদের। ‘৪৭, ‘৭১, ‘২৪—এই জনপদের মানুষ বারবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। আর আমরা আজও লড়ছি বৈষম্য ও দলীয় দখলের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে।”
তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বে যেভাবে বগুড়া, কুমিল্লার মতো জেলা দলীয়করণ ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে, ঠিক সেভাবে এখন গোপালগঞ্জকে নিজেদের সম্পত্তি ভেবে কেউ কেউ দখলে রাখার চেষ্টা করছে। “কোনো ব্যক্তি বা পরিবার আর বাংলাদেশকে কিনে নিতে পারবে না। বাংলাদেশ বিক্রি হবে না একক স্বার্থে। এটি হবে সবার,”—বলে মন্তব্য করেন এনসিপি নেত্রী।
গোপালগঞ্জকে বাদ দিয়ে নয়, বরং এখানকার সন্তানদের সঙ্গে নিয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তাসনিম জারা বলেন, “মধুমতির কোল ঘেঁষা এই জনপদের মানুষও যেন আর বৈষম্যের শিকার না হয়, সেই লড়াই চালিয়ে যাবো। পথ কঠিন, চ্যালেঞ্জ বহু, কিন্তু মানুষ যখন জাগে, ইতিহাস বদলায়।”
তবে, এই উদার রাজনৈতিক বার্তার বিপরীতে গোপালগঞ্জে ঘটে চলেছে একের পর এক সহিংস ঘটনা। বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জ পৌর পার্কের উন্মুক্ত মঞ্চে এনসিপির সমাবেশের প্রস্তুতি চলাকালে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপি নেতারা। তারা জানান, মঞ্চ ভাঙচুরের সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলাকারীরা পার্কে প্রবেশ করে এবং ককটেল বিস্ফোরণের শব্দও পাওয়া যায়।
এর আগে সকালেই গান্ধীয়াশুর এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়িবহরে হামলা চালায় ছাত্রলীগের কর্মীরা। ভাঙচুর করা হয় গাড়ি, আহত হন কয়েকজন। এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ইউএনও এম রকিবুল হাসান। আর সকালেই সদর উপজেলার উলপুর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বলে নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
একদিকে যখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে ‘যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ নেওয়ার, অন্যদিকে এনসিপির শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিকে দমন করতে বারবার প্রকাশ্যে সহিংসতা চালানো হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে দেশের বিভিন্ন মহল থেকে। গোপালগঞ্জ এখন এক উত্তপ্ত রাজনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে একটি উদার গণতান্ত্রিক চর্চার বদলে প্রকাশ্য দমন-পীড়নের চিত্র উঠে আসছে।
তাসনিম জারার মতো নেতৃত্বদানে গড়ে ওঠা এনসিপি একটি শক্তিশালী বিকল্প রাজনৈতিক পথ নির্মাণের চেষ্টা করছে বলেই হয়তো তাদের এই পথচলায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে। তবে তার কথায় যেমন প্রতিরোধের শক্তি ছিল, তেমনি আশাবাদও—“আমরা গোপালগঞ্জকে বাদ দিয়ে যাবো না। বরং গোপালগঞ্জকেই সঙ্গে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়বো।”