ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বেই খুন হন সোহাগ, এজাহার নিয়ে বিভ্রান্তি নেই, ডিএমপি কমিশনার

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৪ বার

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে আলোচিত ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে এজাহার থেকে নাম বাদ দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা সরাসরি অস্বীকার করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সোহাগ হত্যার পেছনে মূল কারণ ছিল তার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, আর এজাহার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণই নিহতের পরিবারের সিদ্ধান্তে হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার স্পষ্ট করে বলেন, ঘটনার দিনই সোহাগের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী লাকি আক্তার ও সৎ ভাই রনি থানায় গিয়ে ২৩ জনকে আসামি করে একটি খসড়া এজাহার তৈরি করেন। পরে নিহতের বোন মুঞ্জয়ারা বেগম থানায় এসে নিজেই বাদী হতে চান এবং আগের খসড়া থেকে পাঁচজনের নাম বাদ দিয়ে নতুন একজনের নাম যুক্ত করে মোট ১৯ জনকে আসামি করে এজাহার দাখিল করেন। পুলিশের ভূমিকা ছিল কেবল আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, কোনোভাবে নাম বাদ দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না বলে দাবি করেন তিনি।

ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের এই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এন নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত কমিশনার (অ্যাডমিন) ফারুক আহমেদ, লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার জসীম উদ্দীন ও মিডিয়া বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা।

ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে কমিশনার জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ভিত্তিতে এজাহারভুক্ত সাতজনসহ মোট নয়জনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ পটুয়াখালী থেকে মঙ্গলবার ধরা পড়েছে ধর্মান্তরিত এক আসামি অভি, যিনি আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার আরও জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ দ্রুত পৌঁছালেও হামলাকারীরা ওই সময় ‘চাঁদাবাজদের জায়গা নাই, ব্যবসায়ীদের ভয় নাই’ স্লোগান দিয়ে একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছিল। এ সময় চকবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সরোয়ার সন্দেহভাজন হিসেবে মাহমুদুল হাসান মহিন ও রবিনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেন।

তিনি বলেন, “ঘটনার দিন ৯৯৯ থেকে খবর পেয়েই কয়েক মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিল। এরপরই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের ভূমিকা ও সম্পৃক্ততা যাচাই করতে তদন্ত অব্যাহত আছে।”

সোহাগ হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজব ও বিভ্রান্তির প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “এজাহার কোনো ফাইনাল চার্জশিট নয়, এটি প্রাথমিক তথ্য বিবরণী মাত্র। তদন্তে নতুন তথ্য এলে তা যাচাই-বাছাই করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। কোনোভাবে প্রভাব খাটিয়ে পুলিশ এজাহার পরিবর্তন করেনি, যা বলা হচ্ছে তা পুরোপুরি বিভ্রান্তিকর।”

ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে সোহাগ খুন হয়েছেন উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার জানান, তার পরিবারের লোকজনের একাংশের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ও ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, যা নিয়েই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ কোনো তথ্য গোপন রাখবে না এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে যা যা করা দরকার, তা করা হবে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলন শেষে ডিএমপি কমিশনার নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “আমরা এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাব। সোহাগ হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত