প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাক্ষাৎ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার অগ্রগতি এবং রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে সরকারকে অবহিত করার অংশ হিসেবে উপাচার্য এই সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তবে বৈঠকে শুধুমাত্র নিয়মরক্ষার আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং উঠে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অবস্থা, শিক্ষার্থী কল্যাণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বৈঠকে অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শিক্ষা-গবেষণার অগ্রগতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে গৃহীত নানা পদক্ষেপ নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করেন। বিশেষ করে ডাকসু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে গঠিত নির্বাচন কমিশনের অগ্রগতির বিষয়টি তিনি প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টিগোচরে আনেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন এবং গণতান্ত্রিক চর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
উপাচার্য এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও স্থাপনা নির্মাণ প্রকল্পের ব্যাপারে অবহিত করেন এবং জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রধান উপদেষ্টার সহযোগিতা কামনা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুদান বৃদ্ধির ব্যাপারে তিনি প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেন। একইসঙ্গে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য সমাবর্তনে প্রধান উপদেষ্টাকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণামূলক কাজের প্রসারে সরকার সবসময় আন্তরিক এবং দায়বদ্ধ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সম্ভাব্য সকল সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন এবং একইসঙ্গে শিক্ষা-গবেষণা খাতকে জাতীয় উন্নয়নের একটি অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে অভিহিত করেন।
এই সাক্ষাৎ কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের একটি বাস্তব প্রতিচ্ছবি। এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়নে সরকারি সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।