প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের বাজারে আজ (শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি) স্বর্ণের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে জানিয়েছিল যে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়ে গেছে। সেই অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন দাঁড়িয়েছে দুই লাখ একষট্টি হাজার চল্লিশ (২,৬১,০৪০) টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে দুই লাখ ঊনচল্লিশ হাজার একশত তিরিশ (২,৪৯,১৪৩) টাকায়। ১৮ ক্যারেটের দাম নির্ধারিত হয়েছে দুই লাখ তের হাজার পাঁচশ’ আটষট্টি (২,১৩,৫৬৮) টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে এক লাখ চুরত্রিশ হাজার সাতশ’ পঁচাশি (১,৭৪,৭৮৫) টাকায়।
বাজুসের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে যুক্ত করতে হবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে। সম্প্রতি স্বর্ণের বাজারে ওঠানামা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে স্বর্ণের দাম ৩২ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০ বার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ১২ বার কমানো হয়েছে। এই তুলনায় গত বছর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল ৯৩ বার, যেখানে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
স্বর্ণের এই দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরাও নতুন পরিস্থিতিতে সমন্বয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। দেশের বাজারে প্রতিদিনই স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা এই পরিবর্তনকে নজরদারি করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য ওঠানামা এবং স্থানীয় বাজারে ক্রয়-বিক্রির চাপই এই ধারাবাহিক সমন্বয়ের প্রধান কারণ।
অন্যদিকে, রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ছয় হাজার সাতশ’ সাত (৬,৭০৭) টাকায়। ২১ ক্যারেটের দাম নির্ধারিত হয়েছে ছয় হাজার চারশ’ পনেরো (৬,৪১৫) টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম পাঁচ হাজার চারশ’ তিরাশি (৫,৪৮২) টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে চার হাজার দুই (৪,০৮২) টাকায়। চলতি বছরে রুপার দাম ১৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৭ বার কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, তার মধ্যে ১০ বার বেড়েছিল এবং ৩ বার কমানো হয়েছিল।
বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেতাদের অবশ্যই বাজার মূল্য এবং ভ্যাট ও মজুরি সংক্রান্ত নিয়মাবলী অনুসরণ করতে হবে। স্থানীয় জুয়েলার্সরা বাজারে এই নতুন দাম কার্যকর করতে শুরু করেছেন এবং গ্রাহকদের সঙ্গে স্বচ্ছতা বজায় রাখছেন।
বছরের শুরু থেকে স্বর্ণের বারবার সমন্বয় দেশের বাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এই ওঠানামা চলতেই পারে। এর ফলে স্বর্ণ ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কে কৌশলগত পরিকল্পনা নিতে হচ্ছে, বিশেষ করে যারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ সংগ্রহ করেন।