সিলেটের রমজান বাজারে দামের অস্থিরতা অব্যাহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮ বার
নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসেনি

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রমজানের প্রথম সপ্তাহ পেরোলেও সিলেট মহানগরীর নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। মাংস, মাছ, শাকসবজি ও ফলমূলের দাম স্থিতিশীল না থাকায় সাধারণ ক্রেতারা হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারি মূল্যতালিকা থাকা সত্ত্বেও বাজারে পণ্যের মূল্য অনেকাংশে তার চেয়ে বেশি। প্রশাসনিক তৎপরতার কথাও থাকলেও দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততার কারণে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

নগরীর বিভিন্ন বাজার—বন্দরবাজার, ব্রহ্মময়ীবাজার, আম্বরখানা, মদিনা মার্কেট, সুবিদবাজার ও কাজিরবাজার—পরিদর্শন করলে দেখা গেছে, শাকসবজির কিছু দাম সামান্য কমলেও মাংস, মাছ এবং ফলমূল এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারে নির্ধারিত দামের প্রভাব দেখা যায়নি। রমজানের শুরুতে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি প্রায় ২৫ টাকা বেড়ে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় উঠেছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, খাসির মাংস ১২০০ থেকে ১২৫০ টাকা কেজি দরে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত খাসির পরিবর্তে অন্য মাংস বিক্রির অভিযোগও আছে।

মাছের বাজারে কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। ফলমূলও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। কলা (মিডিয়াম) হালি ৩০-৪০ টাকা থেকে বিক্রি হচ্ছে, আপেলের দাম ৩৫০ টাকা, সাদা ও কালো আঙুর ৫০০-৫৫০ টাকা, এবং কমলা ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি দরে। লেবু ও শসার দামেও অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে; লেবু বর্তমানে ৮০-১০০ টাকা কেজি, শসা ৮০-১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারের মূল্য বৃদ্ধি খুচরা পর্যায়ে চাপ তৈরি করেছে।

নগরীর তালতলা এলাকার বাসিন্দা সুলেমান আলী বলেন, ‘রমজান এলেই বাজারে চাপ বাড়ে, তবে এবার দাম আগেভাগেই বেড়ে গেছে। নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে বাজারদরের কোনো মিল নেই। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটি বড় ধাক্কা।’

নগরভবনে রমজানের আগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার রমজানে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির আহ্বান জানান। সভায় গরুর মাংস ৭৫০ টাকা, মহিষের মাংস ৬৫০ টাকা, খাসির মাংস এক হাজার ১০০ টাকা, ছাগল ও ভেড়ার মাংস এক হাজার টাকা, সোনালি মুরগি ৩১০ টাকা এবং পোল্ট্রি মুরগি ১৭০ টাকা কেজি নির্ধারণ করা হয়েছিল। মূল্যতালিকা প্রদর্শন ও নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল।

বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে মূল্যতালিকা টানানো হয়নি। অনেক দোকানে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। একই বাজারে ভিন্ন দোকানে ভিন্ন দামে মাংস বিক্রি হওয়ায় ক্রেতারা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন। দাড়িয়াপাড়ার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মুসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য রক্ষা এবং নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা গেলে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো। এখন রোজাদারদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।’

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার বলেন, ‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনা হচ্ছে। নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে মাংস বিক্রি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অন্যদিকে, দায়িত্ব নেওয়ার পর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে শুধু কথা নয়, কাজের মাধ্যমে ফল দেখানো হবে। তিনি জানান, রমজানের পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং বাজার তদারকিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘রমজান ও পরবর্তী সময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত সরকারের হাতে রয়েছে। পাইপলাইনেও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত