প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অধীনস্থ কাস্টমস, ভ্যাট ও কর বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টানা আন্দোলন ও কর্মবিরতিজনিত কারণে দেশের রাজস্ব ও অর্থনৈতিক খাতে যে ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিরূপণে সরকার একটি নয় সদস্যের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটিকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যাতে স্বাক্ষর করেন আইআরডির উপসচিব রেদোয়ান আহমেদ। এই আদেশে বলা হয়, কাস্টমস, ভ্যাট এবং কর বিভাগের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মবিরতি ও শাটডাউন কর্মসূচি পালনের ফলে রাজস্ব আদায়ে যে বিঘ্ন ঘটেছে, তার বাস্তবচিত্র ও পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেশ করাই এই কমিটির দায়িত্ব।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে আইআরডির যুগ্মসচিব সৈয়দ রবিউল ইসলামকে এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে আইআরডির প্রশাসন-১ শাখার উপসচিবকে। কমিটিতে আরও সদস্য হিসেবে থাকছেন অর্থ বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, এনবিআর, বিজিএমইএ এবং এফবিসিসিআই থেকে একজন করে প্রতিনিধি।
কমিটির কার্যপরিধি পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, গত ২৮ ও ২৯ জুন চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে অফিস বন্ধ থাকার ফলে রাজস্ব আদায়ে যে ঘাটতি হয়েছে, তার পরিমাণ নিরূপণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিগত দুই মাসব্যাপী কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগ এবং কর বিভাগের কর্মবিরতির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কমিশনারেট, বন্ড কমিশনারেট, আপিল কমিশনারেটসহ অন্যান্য দপ্তরে রাজস্ব আদায়ে যে ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ তুলে ধরতে হবে। তৃতীয়ত, এই কর্মসূচির ফলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে, বিশেষ করে স্থল ও নৌবন্দরে শুল্কায়ন ও পণ্য চলাচলে যে প্রভাব পড়েছে, সেটিও পর্যালোচনা করে সার্বিক অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উপস্থাপন করতে হবে।
এই আদেশে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করতে পারে।
উল্লেখ্য, এনবিআরের অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলা কর্মবিরতি ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার কারণে রাজস্ব আহরণ কার্যক্রমে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে। বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে শ্লথতা, কনটেইনার ছাড়ে বিলম্ব, এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়, যার প্রভাব পড়ে জাতীয় অর্থনীতিতে।
অর্থনীতিবিদ ও রাজস্ব বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় জটিলতা ও প্রশাসনিক অস্থিরতা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই কমিটির প্রতিবেদন এবং সুপারিশ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকার জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও কাঠামোগত সংস্কার বিবেচনায় নেওয়া হবে। কমিটির সুপারিশ অনুসরণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে সরকার।