প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
যা একসময় ছিল নিছক বিজ্ঞান কল্পকাহিনির অংশ, তাই আজ পরিণত হলো বাস্তবে। বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ কার্যক্ষম কৃত্রিম গর্ভাশয় তৈরি করে নতুন এক যুগের সূচনা করেছে জাপান। এই বৈপ্লবিক আবিষ্কারের ফলে মানব ভ্রূণ এখন পুরোপুরি মাতৃগর্ভের বাইরে নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে — যা চিকিৎসা ও মানব প্রজনন বিজ্ঞানে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জাপানের একদল বিজ্ঞানী দীর্ঘ এক দশকের গবেষণা ও পরীক্ষার পর ‘এক্সোউম্ব’ নামে পরিচিত এই কৃত্রিম গর্ভাশয়ের সফল কার্যকারিতা ঘোষণা করেছেন। গবেষকরা জানিয়েছেন, বিশেষ বায়োলজিক্যাল ফ্লুইড ও নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা, অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহের মাধ্যমে এটি মাতৃগর্ভের অনুরূপ একটি পরিবেশ তৈরি করে। ভ্রূণকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও অক্সিজেন পৌঁছে দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে কৃত্রিম নাল। একই সঙ্গে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় মনিটরিং সিস্টেম, যা ভ্রূণের শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করে।
এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে জটিল গর্ভাবস্থার সমস্যায় ভোগা মায়েদের জন্য নতুন আশার দ্বার খুলে গেল। বিশেষজ্ঞদের মতে, অকাল প্রসব বা মাতৃগর্ভের জটিলতার কারণে যে সব শিশু ঝুঁকিতে থাকে, তাদের বাঁচিয়ে তোলার সম্ভাবনা এখন বহুগুণ বেড়ে যাবে। এমনকি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় এটি বন্ধ্যা দম্পতিদের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।
তবে প্রযুক্তিটি যেমন সম্ভাবনার আলো দেখাচ্ছে, তেমনি নানা নৈতিক ও সামাজিক বিতর্কও উস্কে দিচ্ছে। জাপানে ইতিমধ্যে এ নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে—মানুষের জন্ম প্রক্রিয়া থেকে মায়ের ভূমিকা কীভাবে বদলে যাবে, কিংবা শিশুর বিকাশে সামাজিক ও মানসিক প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে অপব্যবহার হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
জাপানের সরকার ও গবেষকরা এ বিষয়ে কঠোর নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে সীমিত পর্যায়ে মানব ভ্রূণ নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে, যা সফল হলে পরবর্তী দশকে বিশ্বজুড়ে এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বিশ্বের চিকিৎসা বিজ্ঞান ও জৈবপ্রযুক্তির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে জাপানের এই ‘এক্সোউম্ব’। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নজর এখন জাপানের দিকে—মানুষের জন্ম ও মাতৃত্বের সংজ্ঞা কি তবে বদলে যাবে? নাকি একে ঘিরে নতুন এক নৈতিক আন্দোলন গড়ে উঠবে? প্রশ্নের উত্তর দেবে আগামী দিনগুলোই।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন