প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফলাফলকে কেন্দ্র করে নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগে বিএনপি ও জামায়াতের একাধিক প্রার্থী হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। সোমবার ও মঙ্গলবার বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের দাবিগুলো উপস্থাপন করেছেন। হাইকোর্ট সূত্রে জানা গেছে, বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব মামলার শুনানি করবেন।
ময়মনসিংহ-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী এই মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে তিনি ভোটের গণনা প্রক্রিয়া ও ফলাফলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একইভাবে, নারায়ণগঞ্জ-২, নারায়ণগঞ্জ-৩, লালমনিরহাট-১ এবং লালমনিরহাট-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। তারা দাবি করেছেন, নির্বাচনের সময় নানা অনিয়ম এবং ভোটের ফলাফল বিকৃত করার চেষ্টা হয়েছে।
এর আগে কয়েকটি আসনের প্রার্থীরাও ভোট কারচুপির অভিযোগ জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। কুড়িগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ, রংপুর-৬ সাইফুল ইসলাম, রংপুর-৪ এমদাদুল হক ভরসা এবং রাজশাহী-১ আসনের মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরীফ উদ্দিন পৃথক মামলা দায়ের করেন। এই মামলাগুলোতে আদালত প্রার্থীদের দাবির ভিত্তিতে কিছু ব্যালট পেপার এবং ফলাফলের রেজাল্টশিট হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
রোববার (১ মার্চ) হাইকোর্ট রাজশাহী-৪ ও পাবনা-৪ আসনের ব্যালট পেপার ও ফলাফলের রেজাল্টশিট হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। আদালত একই সঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য ১১ মে দিন ধার্য করেছেন। এ সিদ্ধান্ত নির্বাচন সংক্রান্ত দাবিগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নেওয়া হয়েছে, যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা যায়।
এর আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তিনটি আসন—ঢাকা-৬, ঢাকা-৭ ও গাইবান্ধা-৪—সংক্রান্ত ভোট কারচুপির অভিযোগ হাইকোর্টে দায়ের করে। তারা জানিয়েছে, নির্বাচনের সময় অনিয়ম এবং প্রার্থীকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে। এসব মামলা ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নির্বাচনের ন্যায়সঙ্গততা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যে কোনো অনিয়ম বা ভোট কারচুপি জনগণের প্রতি অবিশ্বাস সৃষ্টি করে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে। এ ধরনের মামলা আদালতের মাধ্যমে বিচারাধীন থাকায় প্রার্থীরা আইনের শরণাপন্ন হচ্ছেন। এটি নির্বাচনকালীন দায়িত্বশীলতার পরিচায়ক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ধরনের মামলা শুধু নির্দিষ্ট প্রার্থী বা দলের জন্য নয়, পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আদালত নিশ্চিত করবে যে ভোটের গণনা ও ফলাফল ন্যায্যভাবে হয়েছে কি না। মামলার মাধ্যমে প্রার্থীরা তাদের অধিকার ও ভোটের ফলাফলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারবেন।
সংক্ষেপে বলা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে বিএনপি ও জামায়াতের একাধিক প্রার্থী হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। হাইকোর্টের এই বিচারিক প্রক্রিয়া ভোটের স্বচ্ছতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নাগরিকদের নির্বাচনে আস্থা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।