প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দক্ষিণ সুদানের উত্তরাঞ্চলের আবিয়েমনম কাউন্টিতে এক ভয়াবহ সশস্ত্র হামলায় নারী, শিশু ও বয়স্কসহ অন্তত ১৬৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় সময় রবিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে হামলাকারীরা নিরীহ মানুষের ওপর আকস্মিকভাবে আক্রমণ চালায়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মানুষ ঘুমে থাকা অবস্থায়ই অগ্নিসংযোগ ও তান্ডবের মুখোমুখি হয়। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা এই হামলায় বহু বাড়িঘর ও বাজার পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
হামলায় নিহতদের মধ্যে পুলিশ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় কাউন্টি কমিশনার এবং নির্বাহী পরিচালকও রয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন, যাদের মধ্যে কিছুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের দ্রুত দাফনের জন্য গণকবর ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার পর স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, আক্রমণকারীরা পার্শ্ববর্তী ইউনিটি রাজ্য থেকে এসে এই তাণ্ডব চালিয়েছে এবং তারা বিরোধী রাজনৈতিক দল এসপিএলএ-আইও’র সঙ্গে যুক্ত। তবে বিরোধী পক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং হামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।
প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ১,০০০ সাধারণ মানুষ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ঘাঁটির কাছে আশ্রয় নিয়েছে। সহিংসতার কারণে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা মেডিকেল স্ট্রেটেজি ফর ফ্রন্টিয়ারস (এমএসএফ) তাদের সেবা স্থগিত করেছে। সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের ২৬ জন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন এবং একটি স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ফলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে।
দক্ষিণ সুদানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে অস্থিতিশীল। ২০১৮ সালে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তি কার্যত ভেঙে পড়ার উপক্রমে রয়েছে। জাতিসংঘের বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, দেশে পুনরায় বড় ধরনের গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে। স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গোষ্ঠীগত বিবাদের জটিলতায় নাজুক অবস্থায় আছে। সাম্প্রতিক হামলা দেশের মানুষকে আবারও নিরাপত্তাহীনতার মুখে ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজনৈতিক ও সামরিক ফ্রন্টে ক্ষমতার লড়াই সাধারণ মানুষের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। দারিদ্র্য ও শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ মৌলিক চাহিদার অভাব পরিস্থিতি আরও ঘোরতর করছে। বিশেষত শিশু ও নারী জনসংখ্যার ওপর এই সহিংসতার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও মানসিক ক্ষতি সৃষ্টি করে।
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। হামলার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য স্থানীয় সরকার এবং জাতিসংঘকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে দেশের দুর্যোগপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক অবস্থার কারণে স্থায়ী সমাধান মেলাতে চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
দক্ষিণ সুদানের এই ভয়াবহ হামলা শুধু ওই অঞ্চলের নয়, সমগ্র আফ্রিকা অঞ্চলের জন্য সতর্কতার ঘণীণ বার্তা বহন করছে। রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বে নিরীহ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে, যা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আন্তর্জাতিক মহল বিবেচনা করছে। শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি পদক্ষেপ ছাড়া অঞ্চলটিতে আরও বড় মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে।