বাংলাদেশ থেকে চার দিনে ১৩১ ফ্লাইট বাতিল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৪ বার
বাংলাদেশ থেকে ১৩১ ফ্লাইট বাতিল

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে চার দিনের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের মোট ১৩১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ আরও ২২টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোতে বিভিন্ন দেশের রুটে যাত্রীদের যাত্রা ব্যাহত হয়েছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে।

বেবিচক সূত্র জানায়, ফ্লাইট বাতিলের প্রধান কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি। বাতিলকৃত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে কাতার এয়ারলাইনসের চারটি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের চারটি, গালফ এয়ারের একটি, ফ্লাই দুবাইয়ের চারটি, কুয়েত এয়ারের দুটি এবং জাজির এয়ারলাইনসের চারটি ফ্লাইট। এ ছাড়াও অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সও তাদের নির্ধারিত সময়সূচি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।

ফ্লাইট বাতিলের ফলে যাত্রীদের মধ্যে হতাশা ও অস্বস্তির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক প্রবাসী যাত্রী সময়মতো পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে না পারায় এবং ব্যবসায়িক কাজে ব্যাঘাত ঘটায় উদ্বিগ্ন। বেবিচক ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স যাত্রীদের নিরাপদ ও সময়মতো যাত্রা নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছে। তবে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, আবুধাবি, শারজাহ এবং দুবাই রুটে যাত্রা এখনও স্বাভাবিকভাবে চলছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কতার বিষয়টি পুনরায় জোর দিয়ে বলা হয়েছে। বিমান সংস্থা ও ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইট সময়সূচি নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রা ও ভ্রমণ সংক্রান্ত আপডেট নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যাত্রীদের এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাবধান থাকার ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফ্লাইট বাতিলের এই ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও প্রবাসী কর্মীর যাতায়াতেও প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক যোগাযোগও প্রভাবিত হচ্ছে। এর ফলে ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী এবং শিক্ষার্থীসহ সকলের জীবনে অপ্রত্যাশিত ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেবিচকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিকল্প ফ্লাইট ও যাত্রা পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে অস্থিরতা বৃদ্ধির ফলে আগামী সপ্তাহেও ফ্লাইট বাতিলের ঝুঁকি রয়েছে। যাত্রীদের সব ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা ও বিমানের তৎপরতা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। বেবিচকও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে যাত্রীদের তথ্য দিয়ে সহায়তা প্রদান করছে।

বর্তমানে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হলেও বিমান সংস্থাগুলো যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি যাত্রীরা বিবেচনায় রেখে নিজ নিজ পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত