মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ছায়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিপর্যয়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৯ বার
মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিপর্যয়

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা-ইসরাইলের উত্তেজনার ফলে যখন আকাশপথ বন্ধ ও অনিশ্চয়তায় ভরে গেছে, তখন সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বহু প্রবাসী দেশে ফিরতে পারছেন না, অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকলেও কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। দিনরাত বিমানবন্দরে আটকে অনিশ্চিত প্রতীক্ষায় দিন গুনছেন তারা। অনেক প্রবাসীর অভিযোগ, অন্যান্য দেশের নাগরিকরা ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, অথচ বাংলাদেশিরা দিশাহারা অবস্থায় রয়ে গেছেন। নিরাপত্তা শঙ্কা, অর্থকষ্ট ও অনিশ্চয়তার চাপ তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটকে থাকা প্রবাসীদের সহায়তায় সব প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী সমস্যার সম্মুখীন হলে তা জানানোর জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আটকেপড়া প্রবাসীদের ভিসা সমস্যার সমাধানে ‘বিশেষ সেল’ তৈরি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী প্রবাসীরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত হওয়ার কারণে অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। কর্মস্থলে নির্ধারিত সময়ে না পৌঁছালে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। তারা দাবি করেছেন, “সময়সীমা লঙ্ঘনের দায় আমাদের নয়। সরকার যদি সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে, আমরা চিন্তামুক্ত হব।”

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত শ্রমিকরা বলেন, বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে, অথচ আমরা আছি আতঙ্কের মধ্যে। বাসায় অবস্থান করতেও ভয় কাজ করছে, বাইরে বের হতে গেলেও ঝুঁকি দেখা দেয়। চারদিকে উত্তেজনা ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ বিরাজ করছে।

সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চারদিনে ১৪৭টি এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৩৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। মঙ্গলবার নির্ধারিত ফ্লাইটের মধ্যে ৩৮টি বাতিল হয়েছে। কাতার, দুবাইসহ বিমানের ছয় রুটের সব ফ্লাইট ৫ মার্চ পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। বাতিল রুটের মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি ও শারজা, সৌদি আরবের দাম্মাম, কাতারের দোহা এবং কুয়েত।

সুনামগঞ্জের রাশেদ আহমদ বলেন, “আজ বিকাল ৪টায় আমার ফ্লাইট ছিল, হঠাৎ বাতিলের খবর পেলাম। এখন দুশ্চিন্তায় আছি। সময়মতো কর্মস্থলে না যাওয়ার জন্য পরে কোনো ঝামেলা হয় কি না।” তিনি আরও বলেন, “এখানে দায় তো আমার নয়। আমরা প্রস্তুত, তবুও বিদেশিরা হয়তো সহজে বিষয়টি বুঝবে না।”

অন্য প্রবাসী রাশেদ নিয়াজি জানান, সৌদি আরবের ফ্লাইট বাতিল হয়ে পড়ায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে আছেন। আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের একটাই চাওয়া, কাজে যোগদানের ক্ষেত্রে সময় যেন সমস্যা না হয়।

দুবাই প্রবাসী ইমরান আহমদ বলেন, “ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের কারণে আমরা মহাবিপদে রয়েছি। বাসা থেকে বের হওয়াতেও ভয়, বাসায় অবস্থান করতেও ভয়। সব সময় আতঙ্কে আছি। অন্যান্য দেশের নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হলেও আমরা নিজের মতো করে দিশাহারা।”

তথ্য অনুযায়ী, কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসার মেয়াদ এক মাসের জন্য বৃদ্ধি করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর এই সিদ্ধান্ত প্রয়োজনে আরও বাড়ানো যেতে পারে। ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে ভিসার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি করা হবে, কোনো ফি লাগবে না, অতিরিক্ত আবেদন জমা দেওয়ার প্রয়োজনও নেই। ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে মেয়াদ শেষ হওয়া ভিসার ক্ষেত্রে জরিমানা পরিশোধের পর মেয়াদ বৃদ্ধি ও ফি মওকুফ প্রযোজ্য হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীরা ফ্লাইট চালু হলে বাংলাদেশে থাকা দূতাবাস থেকে ১৫-২০ দিনের ট্রাভেল পারমিট পাবেন। পার্টনার ভিসা (ব্যবসায়ী) থাকলে এ ধরনের পারমিটের প্রয়োজন নেই। রিয়াদ ও দাম্মামের স্পর্শকাতর এলাকার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

প্রবাসী বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনির বলেন, সংকটে নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরাতে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র উদ্যোগ নেবে। আশা করা যায়, বাংলাদেশ সরকারও প্রবাসীদের নিরাপদে ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। দেশে ফেরার আগেই প্রচার ও অবহিতকরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক প্রবাসী দেশে এসে আটকা পড়েছেন, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। তাদের সমস্যা আমাদের মনিটরিংয়ে আছে। বিশেষ সেল খোলা হয়েছে। দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিসা সমস্যার সমাধান চেষ্টা করা হবে।”

ইসরাইল ও আমেরিকার হামলার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে বিমান চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত