যুক্তরাষ্ট্রের ইরান হামলায় ৫০ হাজার সেনা ও ২০০ যুদ্ধবিমান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৬ বার
যুক্তরাষ্ট্র ইরান হামলা সামরিক আক্রমণ

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় এসে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করেছে এবং এতে অংশ নিচ্ছে ৫০ হাজারেরও বেশি সেনা, ২০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান, দুইটি বিমানবাহী রণতরী ও একাধিক বোমারু বিমান। এই অপারেশনকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার কয়েক দশকের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ সামরিক প্রস্তুতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এই অভিযান শুরু হয়েছে গত কয়েক দিন ধরে এবং ইতোমধ্যেই বহু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন বাহিনী এবং তাদের অংশীদার ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, ড্রোন সিস্টেম, সামরিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রসহ অন্যান্য অত্যাধুনিক স্ট্র্যাটেজিক স্থাপনাগুলো। অ্যাডমিরাল কুপার বলেছেন, এই লক্ষ্যবস্তুগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হুমকি আসতে পারে, তাই এগুলো ধ্বংস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হামলার সময় ইতোমধ্যেই ইরানি নৌবাহিনীর ১৭টি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে, যার মধ্যে তাদের সবচেয়ে কার্যকর সাবমেরিনও রয়েছে। এ ছাড়া আরব উপসাগর, হরমুজ প্রণালী ও ওমানের উপসাগরে ইরানের কোনও যুদ্ধজাহাজ সক্রিয় নেই এবং তাদের নৌবাহিনী কার্যত নির্মূল করা হয়েছে। যুদ্ধবিমানের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ২০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমান নিরাপদ দূরত্ব থেকে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে এবং যথাযথ সমর্থন ও টহল দিচ্ছে। দুটি বিমানবাহী রণতরীও এই অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা নৌবাহিনীর প্রধান ফ্ল্যাট-টপ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যুদ্ধবিমান ও সামরিক টহলদার বাহিনী মোতায়েন করছে।

ইরানও তাদের পক্ষে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে। তাদের পক্ষ থেকে ৫০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২,০০০টির বেশি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ লক্ষ্য ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। সামরিক সংঘাতের ফলে ইরানের শহরগুলো বিশেষত তেহরানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখা গেছে এবং অসংখ্য বেসামরিক নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে নিহতের সংখ্যা কয়েকশোর বেশি হয়েছে, যার মধ্যে অনেকেই নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক। সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি রাজনৈতিক চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে সাময়িকভাবে সম্পর্ক অটল থাকলেও কৌশলগত মতভেদ দেখা গেছে, যা আন্তর্জাতিক মানচিত্র ও রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এই পর্যন্ত স্থল বাহিনী প্রেরণের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছেন, যা যুদ্ধ আরও দীর্ঘ এবং জটিল করে তুলতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই অভিযান কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে, যদিও নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

এই মুহূর্তে চলমান হামলা এবং পাল্টা প্রতিহাতের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহতর রূপ নিচ্ছে। ইরানের মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আশেপাশের দেশগুলোর দিকে পালিয়ে যাওয়ার চাপ বেড়েছে। তেলভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীতেও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে এই বৃহৎ সামরিক সংঘাত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সমঝোতা ও শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বানও তীব্রভাবে উঠেছে, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক ইতিবাচক বা নেতিবাচক ফলাফল দিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত