সরকারি অফিসে উপস্থিতি সকাল ৯টা থেকে বাধ্যতামূলক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৮ বার
সরকারি কর্মচারী অফিস উপস্থিতি নির্দেশনা

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিদিন অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সেবাগ্রহণকারী নাগরিকদের সুবিধা, প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা এবং আন্তঃদপ্তর সমন্বয় বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে এখন থেকে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত তাদের নিজ অফিস কক্ষে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। এই নির্দেশনা গত ২ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে, যদিও এর আগে ২০১৯ ও ২০২১ সালে একই বিষয়ে পরিপত্র জারি করা হয়েছিল।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকতে ব্যর্থ হন। তাদের পথিমধ্যে দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত বিভিন্ন কর্মসূচিতে যেমন সেমিনার, ওয়ার্কশপ, সিম্পোজিয়াম বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ, ব্যাংক, হাসপাতাল বা বিদ্যালয়ে যাওয়া ইত্যাদির কারণে অফিসে সময়মতো উপস্থিতি সম্ভব হয় না। এর ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে জনসাধারণ ও অন্যান্য দপ্তরের যোগাযোগ ব্যাহত হয়, যা নাগরিক সেবা প্রদান, প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা এবং সরকারের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের প্রতি কোনো প্রভাব ফেলতে দেবেন না। সরকারি কর্মচারীরা কেবল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে দপ্তর ত্যাগ করতে পারবেন। কর্মস্থল ত্যাগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগে অবহিত করা বাধ্যতামূলক। নতুন নির্দেশনায় নির্দেশিত সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যাতে সেবা গ্রাহকরা নিরবিচ্ছিন্নভাবে সুবিধা পান।

তবে কিছু ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য হবে না। শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক বা অনুষদ সদস্য যারা প্রশাসনিক দায়িত্বে নেই, হাসপাতাল, জেলখানা, সংবাদ সংস্থা বা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে রোস্টার ডিউটিতে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, জরুরি গ্রাহকসেবায় সরাসরি যুক্ত কর্মী, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত দায়িত্ব পালনকারী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সমরূপ সংস্থার সদস্যরা, এবং ভিভিআইপি/ডিআইপি প্রটোকল বা আকস্মিক বড় দুর্ঘটনা মোকাবিলা, উন্নয়ন সহযোগী বা কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশগ্রহণ এবং অনুমোদিত সরকারি সফরের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

নতুন নির্দেশনা সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, সময়ানুবর্তিতা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে। এটি শুধু জনসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সহজলভ্যতা বৃদ্ধি করবে না, বরং দপ্তরগুলোর অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ও শক্তিশালী করবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে সময়মতো উপস্থিত থাকলে দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে ব্যাঘাত কমবে এবং জনসাধারণের সেবা গ্রহণে প্রভাব কমে আসবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও প্রস্থান সংক্রান্ত নিয়ম ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’ এবং ‘সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকারি অফিসগুলোতে এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর করার মাধ্যমে প্রশাসনিক নিয়মকানুন আরও শক্তিশালী হবে এবং সরকারের ভাবমূর্তির ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

পরিপত্রে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, কোনোরকম অনুপস্থিতি বা অফিস ত্যাগের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি অপরিহার্য। এটি সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ববোধ, সময়ানুবর্তিতা এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে আশা করা হচ্ছে, প্রতিদিন সকালেই সরকারি অফিসগুলোতে সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে এবং জনসেবা প্রদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত