রামপুরা মামলার রায় স্থগিত, নতুন প্রমাণাদি দাখিলের আবেদন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
  • ২৬ বার
রামপুরা মামলার রায়

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রামপুরায় জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ডের মামলার রায় আজ ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে নতুন প্রমাণাদি দাখিলের জন্য চূড়ান্ত রায় চার সপ্তাহ স্থগিতের আবেদন করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর এই মামলার নতুন কিছু প্রমাণ নজরে এসেছে। ন্যায় বিচারের স্বার্থে সেগুলো দাখিল করা প্রয়োজন। তাই রায় স্থগিত করে নতুন প্রমাণাদি দাখিলের আবেদন করা হয়েছে। এই আবেদনের শুনানি বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মামলার রায় ঘোষণার প্রাথমিক দিন হিসেবে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ধার্য করা হয়েছিল। তবে প্রসিকিউশনের নতুন প্রমাণের কারণে রায় স্থগিত করা হলে চূড়ান্ত তারিখ পুনঃনির্ধারণ করা হবে। মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে ১৪ জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। ২৩ অক্টোবর প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন গুলিবিদ্ধ আসামি আমির হোসেন। প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ৮ জানুয়ারি শেষ হয়। আসামি চঞ্চল চন্দ্র তার পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন এবং ১৩ জানুয়ারি তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয় ৩ ফেব্রুয়ারি, যখন আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষের আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগের সঙ্গে তার মক্কেলের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং খালাসের আবেদন জানান। এরপর পলাতক চার আসামি তাদের আইনজীবীকে মাধ্যমে নিজেরা নিরপরাধ দাবি করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম তাদের যুক্তি খণ্ডন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ১৫ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, যুক্তি উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর তারা সাক্ষ্যপ্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দিসহ নথিপত্রে পাঁচ আসামির সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে। প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, মামলার পাঁচ আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয় গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর। এর আগে ৭ আগস্ট ফর্মাল চার্জ দাখিল করা হয়। মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন চঞ্চল চন্দ্র সরকার। অপর চার আসামি পলাতক থাকলেও তাদের মধ্যে ছিলেন খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমান এবং সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

এই মামলার রায় স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে বিচারক ও প্রসিকিউশন উভয়পক্ষের বক্তব্যের আলোকে বলা যায়, ন্যায় বিচারের নিশ্চয়তা ও নতুন প্রমাণাদি যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রমাণাদি দাখিলের পর রায় ঘোষণার চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে। মামলাটি শুধু আইনগত নয়, বরং ইতিহাসের বিচারের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ থাকা কারণে দেশের বিচার ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক মানের চোখে এই মামলার গুরুত্ব অপরিসীম।

বেসামরিক জনগণ, মামলার পরিবারের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সবাই রায় ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলেন। রায়ের স্থগিত হওয়ার ফলে এই অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। প্রসিকিউশন দাবি করেছে যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে নতুন প্রমাণাদি যাচাই করা অপরিহার্য। এর ফলে আসামিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক রায় ঘোষণার প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী ও নির্ভুল হবে।

মামলার রায় স্থগিত হওয়া সত্ত্বেও ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, নতুন প্রমাণাদি দাখিলের পর রায় ঘোষণার জন্য দ্রুততম সময়ে পুনরায় দিন ধার্য করা হবে। এটি নিশ্চিত করবে যে, বিচার কার্যক্রম কোনোভাবেই প্রভাবিত বা বিলম্বিত হচ্ছে না। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিদের আইনজীবীরা রায়ের জন্য প্রস্তুত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত