প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
যশোরের অভয়নগরে গভীর রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পৃথক অভিযানে চারজন যুবককে মাদকসেবন ও বহনের দায়ে আটক করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অভিযানের ফলাফল অনুযায়ী একজনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং বাকি তিনজনকে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। অভিযানটি স্থানীয় জনসাধারণকে মাদকমুক্ত রাখার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়।
অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের শাহীমোড়, নওয়াপাড়া মডেল স্কুল এলাকা এবং তালতলা রেলস্টেশন এলাকায় মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দীন দিপু। অভিযানে সহায়তা করেছে অভয়নগর থানা পুলিশ, যারা অভিযানের প্রতিটি ধাপের নিরাপত্তা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার ইমদাদুল শেখ জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানের স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। প্রথমে গুয়াখোলা গ্রামের শাহীমোড় এলাকায় অভিযান শুরু হয়, এরপর নূরবাগ স্বাধীনতা চত্বর সংলগ্ন নওয়াপাড়া মডেল স্কুল এলাকা এবং রাত ১২টার দিকে তালতলা রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান সম্পন্ন হয়। অভিযানে ধৃতরা মাদকদ্রব্যের সরবরাহ ও ব্যবহারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দীন দিপু বলেন, অভিযানে চারজনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় দণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গোপন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে মাদকমুক্ত রাখতে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ধৃতদের মধ্যে গুয়াখোলা গ্রামের মৃত শওকত শেখের ছেলে বাবুল শেখ (২৮) গাঁজা সেবন ও বহনের দায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা পেয়েছেন। মহাকাল গ্রামের নজরুল বিশ্বাসের ছেলে তরিকুল ইসলাম (৩০) ও একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আজাদ বিশ্বাস (২৯) এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা পেয়েছেন। এছাড়া জাফরপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হালিম মোল্যার ছেলে সুমন মোল্যা (৩৮) ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন ও বহনের দায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও একশ টাকা জরিমানা গুণবেন।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত চারজনকে আদালতের নির্দেশক্রমে রাত সাড়ে ১২টার দিকে থানায় নেওয়া হয়। পরবর্তী সকালেই তাদের যশোর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। তিনি বলেন, এই ধরনের অভিযান স্থানীয় জনগণের সুরক্ষা এবং মাদকবিরোধী নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অভয়নগরের এই অভিযানটি শুধু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নয়; এটি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের উদ্যোগে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার এক নজিরও স্থাপন করেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের কাছে স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। আদালতের তৎপরতার ফলে মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীদের ভীতি সৃষ্টি হয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে নিরাপদ পরিবেশ প্রদানের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানের এই পদক্ষেপ স্থানীয় জনগণ এবং প্রশাসনকে একসাথে কাজ করার অনন্য দৃষ্টান্ত প্রদান করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালতের দ্রুত বিচার ব্যবস্থা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হলে অভয়নগরসহ যশোর অঞ্চলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমে আসবে। এতে এলাকার শিক্ষার্থীদের, যুব সমাজের এবং সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হবে।