বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৫ বার
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পূর্ণ অপরিবর্তনীয় নয় বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজন করা সম্ভব। একই সঙ্গে এই চুক্তিতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি প্রায় পৌনে তিন বিলিয়ন ডলার। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার।

বৈঠকে পারস্পরিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় আলোচনা করা হয়। মন্ত্রী বলেন, ৯ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দেশে যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে, সেটি প্রাসঙ্গিক হলেও চুক্তিতে উভয় পক্ষের স্বার্থ এবং সমঝোতা বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, কিছু ধারা এক পক্ষের জন্য সুবিধাজনক হলেও অন্যগুলো অপর পক্ষের অনুকূলে যায়। আলোচনা ও প্রক্রিয়ার লক্ষ্য থাকে এমন একটি অবস্থানে পৌঁছানো, যাতে দুই দেশই লাভবান হয়।

মার্কিন আদালতে জরুরি ক্ষমতার আওতায় আরোপিত শুল্কসংক্রান্ত রায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের পর উদ্ভূত অবস্থা সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নন-ট্যারিফ প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রে দেশে কিছু কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সেগুলো দূর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়তে পারে এবং বাংলাদেশ এ বাধাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী ভিসা বন্ড ইস্যুতে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখছে এবং সরকারের প্রত্যাশা, দুই দেশের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা যাতে সহজে যাতায়াত ও কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা। বৈঠকে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিনন্দন বার্তায় বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রসঙ্গে কিছু উল্লেখ করেছিলেন, তবে বৈঠকে সামরিক ইস্যু নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি স্পষ্ট করেন, প্রতিরক্ষা বিষয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় নয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানান, নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা জোরদার হলে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সহযোগিতা দুই দেশের ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও দৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতে নতুন বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার পথ উন্মুক্ত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত