কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ে নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
  • ৫ বার
উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সরকার কৃষি ও শিল্প খাতের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়েছে। দেশের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন, নীতি নির্ধারণ এবং খাতগুলোর আধুনিকায়ন ও কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আজ পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে বিশেষজ্ঞরা ইতিবাচক বলছেন, কারণ কৃষি ও শিল্প দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে বিবেচিত।

প্রজ্ঞাপনের প্রথমটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন উপদেষ্টার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে দেশের কৃষি খাতের কার্যক্রমের মূল্যায়ন, নীতি প্রণয়ন ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও গবেষণা সম্প্রসারণে সহায়তা করা। কৃষি খাতের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এই খাত দেশের জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।

অপর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শিল্প খাত দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নতুন উপদেষ্টার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে শিল্পায়ন বৃদ্ধি, বিনিয়োগ অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং নতুন শিল্প নীতি প্রণয়নে সহায়তা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপ শিল্প খাতের বেকারত্ব হ্রাস ও রফতানিমুখী শিল্প সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কৃষি ও শিল্প খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় উপদেষ্টা নিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি খাতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার, ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। শিল্প খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও রফতানিমুখী নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে উপদেষ্টারা সরকারি নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করবেন।

সরকার আশা করছে, এই নতুন উপদেষ্টারা তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ব্যবহার করে খাত দুটির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন। বিশেষ করে কৃষি খাতে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, স্থিতিশীল উৎপাদন ব্যবস্থা ও বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং শিল্প খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন করা নতুন উপদেষ্টাদের মূল লক্ষ্য হবে।

অর্থনীতিবিদ ও খাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের এই পদক্ষেপ একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। কৃষি ও শিল্প খাতের সমন্বিত উন্নয়ন দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, রফতানি প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে। কৃষক, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি নতুন সম্ভাবনার দিক খুলে দেবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন উপদেষ্টারা নিয়মিত মন্ত্রণালয় পর্যবেক্ষণ, নীতি প্রণয়ন এবং কার্যক্রম মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। এছাড়া তারা খাত দুটির বিভিন্ন প্রকল্প ও উদ্যোগে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় সহায়তা প্রদান করবেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৃষি ও শিল্প খাতে নতুন উপদেষ্টাদের নিয়োগ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটি শুধু বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার প্রদর্শন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ, যা দেশের উৎপাদনশীলতা, শিল্পায়ন এবং রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত