সরকার পহেলা বৈশাখে শুরু করবে ‘কৃষক কার্ড’

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
  • ৬ বার
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আগামী পহেলা বৈশাখের মধ্যেই দেশে প্রথমবারের মতো ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে কৃষক কার্ড চালুর বিষয়ে গঠিত কমিটির সভা শেষে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ সাংবাদিকদের জানান, এই প্রকল্প প্রাথমিকভাবে পাইলট আকারে ৮ থেকে ৯টি উপজেলায় কার্যক্রম শুরু করবে। প্রাথমিক পর্যায়ের সফলতার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মন্ত্রী জানান, কৃষক কার্ড মূলত ফ্যামিলি কার্ডের আদলে প্রান্তিক ও অতি দরিদ্র কৃষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা বা বেনিফিট নিশ্চিত করবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন, ভোক্তা, কৃষি জমি, পণ্যের ধরন এবং জাতসহ যাবতীয় তথ্য নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর আওতায় আনা হবে। সরকারের কাছে কৃষিখাতের প্রকৃত ও সঠিক তথ্য পৌঁছানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতে কৃষি পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা হবে।

তিনি আরও বলেন, যারা সরাসরি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত, মূলত তাদেরই কৃষক হিসেবে গণ্য করা হবে। কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন, উৎপাদন ও সঠিক তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। সরকারের কাছে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কৃষি পণ্যের বাজারজাতকরণ, পরিকল্পিত বীজ ও সার সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান আরও কার্যকর হবে।

বিনা মূল্যে সার ও বীজ বিতরণের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, এটি সম্ভবত প্রান্তিক বা অত্যন্ত দরিদ্র কৃষকদের জন্য বিবেচনার তালিকায় ছিল। তবে আজকের আলোচনায় এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কৃষক কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য হলো কৃষিখাতকে আরও সংগঠিত করা, প্রান্তিক কৃষকদের কাছে সহজলভ্য সহায়তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা।

প্রকল্পটি শুধু সরকারি তথ্য সংরক্ষণে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি কৃষকদের জন্য সরাসরি সুবিধা প্রদানেও কাজ করবে। কৃষকরা কৃষি উৎপাদন, জমির ধরন ও বীজ ব্যবহারের তথ্য একনিষ্ঠভাবে সরকারি কাঠামোর মাধ্যমে প্রদান করতে পারবে। ফলে কৃষকদের আর্থিক ও উৎপাদন সক্ষমতা উন্নয়নে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।

কৃষক কার্ড কার্যক্রম দেশের কৃষিখাতের জন্য যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক ও দরিদ্র কৃষকরা সরকারি সহায়তা, বীজ ও সার বিতরণসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবে, যা তাদের জীবনে প্রভাব ফেলবে। সরকারের আশা, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষিখাত আরও সংগঠিত হবে, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবে এবং দেশের সামগ্রিক কৃষি উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত