প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঘটে যাওয়া নৃশংস শিশু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
মীর হেলাল জানান, শিশু ইরার হত্যাকাণ্ড সমাজের জন্য মর্মান্তিক এবং এটি সবার মানসিক ভাবনায় গভীর আঘাত সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে যাতে কেউ ভবিষ্যতে এমন নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি করার সাহস না পায়। সরকারের দায়িত্বই হলো জনগণকে নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।’
এই ঘটনায় মূল আসামি বাবু শেখকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করেছেন যে, পরিবারের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে হত্যা করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রাথমিক স্বীকারোক্তি তদন্তের পরিপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পহেলা মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় সাত বছরের শিশু জান্নাতুল নিসা ইরাকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে হাত ধরে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে নিয়ে যায় প্রতিবেশী বাবু শেখ। শিশুটি পরে গলাকাটা অবস্থায় একাই পার্ক থেকে বের হয়ে আসে। আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ইরা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ঘটনার তীব্রতা এবং নৃশংসতায় পুরো দেশ স্তব্ধ।
স্থানীয়রা এবং মানবাধিকারকর্মীরা এই ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সামাজিক সচেতনতা এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিহত শিশুর পরিবার সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয় এবং শিশুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলছেন, সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনগণের নিরাপত্তা এবং শিশুদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করা। এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, শীঘ্রই ঘটনা তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশের শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সরকার, আইনশৃঙ্খলা সংস্থা ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ধরনের ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। শিশুদের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে পুনরায় বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।