প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) দেশের প্রধান নিরাপত্তা সংস্থা র্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছে। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাইডাস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, র্যাব সরকারের কাছে জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলছেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা যেমন ডিজিএফআই, এসবি, ডিবি এবং এনএসআই সংস্কার করা প্রয়োজন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারের কাছে র্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম এবং অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘন, অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত করার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, আইন-শৃঙ্খলা এবং মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে জারিকৃত ত্রুটিপূর্ণ ‘পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিল করা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণের ভিত্তিতে নতুন, স্বাধীন পুলিশ কমিশন আইন প্রণয়নের প্রয়োজন। এতে পুলিশ প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নিয়োগেরও প্রতি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, বর্তমান নেতৃত্বের মাধ্যমে ব্যাংক পরিচালনা হলে স্বাধীনতা এবং স্বচ্ছতা বিঘ্নিত হতে পারে। তিনি সুপারিশ করেন, নবনিযুক্ত গভর্নরের নিয়োগ বাতিল করে দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত একজন প্রার্থী নিয়োগ দেওয়া উচিত।
তিনি সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান প্রশংসা করলেও কিছু ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “কিছু মন্ত্রী চাঁদাবাজির বৈধতার কথা বলছেন। একই সঙ্গে গভর্নরের নিয়োগ নিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। সুতরাং শুধু কথায় নয়, দলের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, সরকার যদি পদে যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের দলীয় ছত্রছায়ার বাইরে নিয়োগ দেয় না, তবে তা দেশের সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রাধান্য দেওয়া হলে বিরোধী পক্ষের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশের প্রশাসনিক দক্ষতা হ্রাস পাবে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান নির্বাচনী ইশতেহার এবং সরকারের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী উপাদান সক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি বহুমুখী ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে কার্যকর কৌশল গ্রহণ জরুরি।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করতে সরকারকে কঠোর নীতি গ্রহণ করতে হবে। এটি নির্বাচন থেকে সরকারী অবস্থান এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার প্রতিরোধে সহায়ক হবে। এছাড়া কালো টাকা বৈধ করার চর্চা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করতে হবে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারের প্রতিটি অঙ্গীকার ও উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের জন্য দুর্নীতির কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
তিনি টিআইবির সুপারিশ হিসেবে বলছেন, র্যাব বিলুপ্তি, গোয়েন্দা সংস্থার সংস্কার, পুলিশ কমিশন আইন পুনর্গঠন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ দেশের সুশাসন ও জনগণের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।