প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকার নগরবাসীর সমস্যা সমাধান ও সেবা সহজীকরণের জন্য জামায়াতে ইসলামী রাজধানীতে ‘নাগরিক সেবা’ মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে বারিধারায় দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এই অ্যাপ উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পদে থাকা নেতৃবৃন্দ।
সেলিম উদ্দিন বলেন, ডিএনসিসিতে অপরিকল্পিত নগরব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং দলীয়করণের কারণে নগরবাসী নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, জলাবদ্ধতা, যানজট, ময়লা আবর্জনা, রাস্তার অব্যবস্থা এবং পরিবহন সেক্টরের অরাজক পরিস্থিতি নগরজীবনে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জামায়াত নগরবাসীর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং সমস্যা সমাধানে ‘নাগরিক সেবা’ অ্যাপ উদ্ভাবন করেছে।
অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা যেকোনো সমস্যার তথ্য সরাসরি দলের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন। সেলিম উদ্দিন বলেন, নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ায় দলের দীর্ঘকালীন কার্যক্রম রয়েছে। এটি একটি মোবাইল হাসপাতালের মতো কাজ করছে। দলের সঙ্গে দেশের প্রায় অর্ধশত হাসপাতাল যুক্ত রয়েছে, যেখানে নগরবাসীরা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া ১০টি সর্বাধুনিক অ্যাম্বুল্যান্স নগরবাসীর সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।
তিনি বেকারত্ব দূরীকরণ ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েও বলেন, ১০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত জাকাতভিত্তিক কর্জের মাধ্যমে নগরবাসীর সহায়তা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগে ডিএনসিসিতে দলের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সংসদ নির্বাচনে চারটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আরও দুটি আসনে ষড়যন্ত্রের কারণে তাদের প্রার্থী সামান্য ভোট ব্যবধানে হারেছেন।
সেলিম উদ্দিন বলেন, ভবিষ্যতে ডিএনসিসির মেয়রের দায়িত্ব এমন ব্যক্তির হাতে থাকা উচিত, যিনি সার্বক্ষণিক নগরীর প্রতি নজর রাখবেন এবং নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। তিনি বলেন, এমন একজন নেতা হবে জাতির জাগ্রত বিবেক ও জনগণের অতন্দ্র প্রহরী।
‘নাগরিক সেবা’ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা সহজেই তাদের অভিযোগ, সমস্যা বা জরুরি প্রয়োজন সংস্থার কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন। অ্যাপটি ডিজিটাল নাগরিক সেবার যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃত হতে যাচ্ছে এবং নগরবাসীর সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখার আশা করা হচ্ছে। এটি শুধু নগর প্রশাসনকে স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল করার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে না, বরং নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মানও উন্নত করবে।
এই উদ্যোগ নগরবাসীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের জনগণমুখী ভাবমূর্তিকে প্রজ্বলিত করছে। এটি একটি আধুনিক নগরব্যবস্থাপনার উদাহরণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, যেখানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমস্যা সমাধান, স্বাস্থ্যসেবা, যানজট ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
জামায়াতের এই অ্যাপ উদ্যোগ নগরবাসীর জন্য মানবিক, সেবা কেন্দ্রীক এবং প্রযুক্তি সমৃদ্ধ সমাধান হিসেবে সুনাম অর্জন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। নগরবাসী দ্রুত সমস্যার সমাধান পাবে এবং প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পাবে।