আইভীর জামিন স্থগিত, শুনানি ৯ মার্চ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৬০ বার
আইভীর জামিন স্থগিত, শুনানি ৯ মার্চ

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত ব্যক্তিত্ব, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেত্রী Selina Hayat Ivy-কে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। পাঁচটি মামলায় তার জামিন স্থগিত হওয়ায় নতুন করে আইনি প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি এখন দেশের উচ্চ আদালতের নিয়মিত বেঞ্চে চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি Md. Rezaul Haque রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। আদালত একই সঙ্গে আগামী ৯ মার্চ বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন। এর ফলে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আপাতত কার্যকর থাকছে না এবং বিষয়টি পুনরায় বিচারিক পর্যবেক্ষণের আওতায় এসেছে।

এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি High Court Division of the Supreme Court of Bangladesh-এর একটি বেঞ্চ সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পাঁচটি মামলায় জামিন দেন। বিচারপতি KM Zahid Sarwar এবং বিচারপতি Sheikh Abu Taher-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দিয়েছিলেন। ওই আদেশের পর রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করলে তা স্থগিত করা হয়।

আইনি সূত্রে জানা যায়, যে পাঁচটি মামলায় আইভীকে জামিন দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে চারটিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে রয়েছে ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা মামলা, আব্দুর রহমান হত্যা মামলা, মোহাম্মদ ইয়াছিন হত্যা মামলা এবং পারভেজ হত্যা মামলা। এসব মামলা রাজনৈতিক সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া আরেকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। সেই মামলাটি করা হয়েছে Narayanganj Sadar Model Thana-এ। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি এবং হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

আইভীর পক্ষে আদালতে শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী Sara Hossain এবং Motahar Hossain Saju। তারা আদালতে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, মামলাগুলোর প্রেক্ষাপট এবং অভিযোগের ধরন বিবেচনায় আইভী জামিন পাওয়ার যোগ্য। তাদের মতে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়গুলো তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত এবং এজন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির জামিনে থাকা আইনের পরিপন্থী নয়।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে যুক্তি তুলে ধরে জামিন স্থগিতের আবেদন জানায়। তাদের বক্তব্য ছিল, মামলাগুলোর গুরুত্ব এবং অভিযোগের প্রকৃতি বিবেচনায় জামিনের আদেশ স্থগিত করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপক্ষের সেই আবেদনের ভিত্তিতেই আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত জামিন স্থগিতের নির্দেশ দেন।

ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো গত বছর থেকেই রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। গত বছরের ৯ মে ভোররাত প্রায় তিনটার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত তার পারিবারিক বাসভবন ‘চুনকা কুটির’ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তখন তাকে হেফাজতে নেয় এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আইনি সূত্রগুলো বলছে, গ্রেপ্তারের পর তাকে জুলাই অভ্যুত্থানকালীন বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে আসামি করা হয়। এসব মামলার তদন্ত চলাকালে পর্যায়ক্রমে তাকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর ফলে তার মুক্তি এবং জামিন প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতে দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়।

পরবর্তীতে হাইকোর্ট পাঁচটি মামলায় তাকে জামিন দিলে বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। তবে সেই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে গেলে চেম্বার আদালত তা স্থগিত করে দেন। ফলে বিষয়টি এখন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

এদিকে জানা গেছে, গত বছরের ১৮ নভেম্বর আরও পাঁচটি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর ফলে তার বিরুদ্ধে মোট মামলার সংখ্যা আরও বেড়ে যায় এবং আইনি জটিলতা আরও গভীর হয়। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।

সেলিনা হায়াৎ আইভী দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে একটি পরিচিত নাম। তিনি একাধিকবার Narayanganj City Corporation-এর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেও তার দীর্ঘ সম্পৃক্ততা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো এবং তার জামিন নিয়ে চলমান আইনি প্রক্রিয়া শুধু আইনি বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় রাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সাধারণত জরুরি পরিস্থিতিতে হাইকোর্টের আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করার ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকে। এরপর বিষয়টি নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। আইভীর মামলার ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

এখন সব পক্ষের নজর রয়েছে আগামী ৯ মার্চের শুনানির দিকে। ওইদিন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে বিষয়টি উঠলে আদালত হাইকোর্টের জামিন আদেশ বহাল রাখবেন, নাকি নতুন কোনো নির্দেশ দেবেন—তা নির্ধারণ হবে।

এদিকে আইভীর আইনজীবী এবং সমর্থকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা আদালতের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিষয়টির সমাধান হবে বলে আশা করছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষও বলছে, মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

সব মিলিয়ে সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন স্থগিতের ঘটনাটি দেশের আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী শুনানির ফলাফলের ওপর নির্ভর করেই নির্ধারিত হবে এই বহুল আলোচিত মামলার পরবর্তী আইনি গতিপথ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত