প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইউরোপের ফুটবল অঙ্গনে গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজার ঘিরে নানা গুঞ্জন, সম্ভাবনা ও আলোচনার শেষ নেই। বড় ক্লাবগুলো নিজেদের শক্তি বাড়াতে পরিকল্পনা সাজায় আগেভাগেই, আর সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আলোচনায় উঠে আসে বিশ্বসেরা অনেক ফুটবলারের নাম। সম্প্রতি এমনই একটি গুঞ্জন ঘিরে ইউরোপের ফুটবল দুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন Vitinha। স্প্যানিশ জায়ান্ট Real Madrid-এ তার সম্ভাব্য যোগদানের খবর নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জোর আলোচনা চলছিল। তবে এসব গুঞ্জনকে একেবারেই গুরুত্ব দিতে নারাজ এই পর্তুগিজ মিডফিল্ডার। বরং তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে Paris Saint-Germain ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়া তার কাছে ‘বোকামি’ বলেই মনে হয়।
২৬ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার বর্তমানে পিএসজির মাঝমাঠের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। প্যারিসের ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সমর্থকদের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি। তাই গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজারে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে পড়লেও বিষয়টি নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছেন না ভিতিনিয়া।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পিএসজিতে তার সময়টা খুব ভালো কাটছে এবং ক্লাবটির সমর্থকদের কাছ থেকে তিনি যে ভালোবাসা পেয়েছেন, সেটিই তার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ভিতিনিয়া বলেন, এই মুহূর্তে পিএসজি ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবাও তার কাছে অযৌক্তিক মনে হয়। তিনি বলেন, এখন যদি পিএসজি ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যান, তাহলে সেটি হবে তার জন্য একটি বোকামির সিদ্ধান্ত।
প্যারিস শহরের পরিবেশ, ক্লাবের অবকাঠামো এবং দলের সহখেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছুই তাকে সন্তুষ্ট করছে বলে জানান এই মিডফিল্ডার। তিনি বলেন, পিএসজির সমর্থকেরা তাকে যেভাবে গ্রহণ করেছেন, তা তার ক্যারিয়ারের একটি বিশেষ অনুভূতি। তিনি মনে করেন, কঠোর পরিশ্রম ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি সমর্থকদের সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পেরেছেন।
শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও প্যারিস শহরকে তিনি নিজের দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। ভিতিনিয়া জানান, তার পরিবারও প্যারিসে বসবাস করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তাই ক্লাব ও শহর—দুটোর সঙ্গেই তার একটি মানসিক বন্ধন তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এখানে থাকতে তার ভালো লাগে এবং পরিবারও এখানে সুখে আছে, যা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে পিএসজির দায়িত্বে আছেন স্প্যানিশ কোচ Luis Enrique। তার অধীনে খেলতে পারাও নিজের জন্য বড় একটি সুযোগ বলে মনে করেন ভিতিনিয়া। তিনি বলেন, দলের কোচ এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে একটি ইতিবাচক পরিবেশ রয়েছে। এনরিকে একজন অভিজ্ঞ কোচ, যিনি খেলোয়াড়দের থেকে সেরাটা বের করে আনতে জানেন। তার অধীনে খেলার সুযোগ পাওয়াকে তিনি নিজের জন্য সৌভাগ্যের বিষয় বলে মনে করেন।
পিএসজির বর্তমান স্কোয়াড নিয়ে আশাবাদী এই মিডফিল্ডার মনে করেন, দলটির সামনে এখনো বড় সাফল্যের সুযোগ রয়েছে। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় সাফল্য পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে পিএসজি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে এবং সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দলটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরবের ক্লাবগুলো ইউরোপীয় ফুটবলের অনেক তারকা খেলোয়াড়কে বড় অঙ্কের অর্থের প্রস্তাব দিয়ে নিজেদের দলে টানার চেষ্টা করছে। ভিতিনিয়ার কাছেও এমন প্রস্তাব এসেছে কি না—এই প্রশ্নও উঠেছে। তবে এই বিষয়ে তার অবস্থান পরিষ্কার।
তিনি বলেন, সৌদি আরবে গেলে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা সম্ভব—এ কথা সবাই জানে। কিন্তু তার কাছে শুধু অর্থই সবকিছু নয়। তিনি এমন একটি ক্যারিয়ার গড়তে চান, যা তাকে সন্তুষ্টি দেবে এবং যেখানে তিনি নিজের ফুটবলকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবেন।
ভিতিনিয়ার মতে, পিএসজির মতো বড় একটি ক্লাবে খেলতে পারা নিজেই একটি বড় সুযোগ। এখানে তিনি ইতিমধ্যেই ভালো পারিশ্রমিক পাচ্ছেন এবং একই সঙ্গে ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। তাই শুধু অর্থের জন্য ক্যারিয়ারের দিক পরিবর্তন করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
স্প্যানিশ গণমাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, Florentino Pérez নতুন মৌসুমের আগে দল পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছেন এবং সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাঝমাঠকে আরও শক্তিশালী করতে ভিতিনিয়াকে দলে টানতে আগ্রহী। রিয়াল মাদ্রিদের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের সঙ্গে নাম জড়ানো অবশ্যই সম্মানের বিষয় বলে মনে করেন ফুটবলাররা। তবে ভিতিনিয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি আপাতত গুঞ্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক মৌসুমে পিএসজির মাঝমাঠে ভিতিনিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং দক্ষতা এবং আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দিকেই অবদান রাখার ক্ষমতার কারণে তিনি দ্রুতই দলের অপরিহার্য খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন।
এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণেই ইউরোপের বড় বড় ক্লাবের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন তিনি। তবে আপাতত পিএসজি ছাড়ার কোনো ইচ্ছা নেই বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই পর্তুগিজ ফুটবলার।
ভিতিনিয়ার বক্তব্যে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে উঠেছে—তার কাছে ক্যারিয়ার মানে শুধু বড় অঙ্কের অর্থ নয়, বরং এমন একটি পথ যেখানে নিজের ফুটবল প্রতিভাকে সর্বোচ্চভাবে প্রকাশ করা যায়। পিএসজিতে সেই সুযোগ তিনি পাচ্ছেন বলেই মনে করেন তিনি।
বর্তমান সময়ে ইউরোপীয় ফুটবলে দলবদলের গুঞ্জন প্রায়ই শোনা যায়, কিন্তু সব গুঞ্জন শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয় না। ভিতিনিয়ার ক্ষেত্রেও আপাতত পরিস্থিতি সেই রকমই। তিনি নিজেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্যারিসেই তিনি সুখী এবং এই মুহূর্তে ক্লাব ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তাই বার্তাটি স্পষ্ট—গুঞ্জন থাকলেও ভিতিনিয়া আপাতত পিএসজিতেই থাকতে চান। নিজের পারফরম্যান্স, দলের লক্ষ্য এবং সমর্থকদের ভালোবাসা—এই তিনটি বিষয়ই তাকে প্যারিসে থেকে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করছে।