প্রকাশ: ৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে প্রথমবার হোয়াইট হাউজে পা রাখলেন লিওনেল মেসি। গত মৌসুমে এমএলএস শিরোপা জয়ী ইন্টার মায়ামির সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এই বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। হোয়াইট হাউজের সাদা কক্ষে মেসি ও তার পুরো দলকে স্বাগত জানান ট্রাম্প। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল মেসির দেওয়া উপহার। আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি নিজের স্বাক্ষর করা ইন্টার মায়ামির আইকনিক গোলাপি রঙের ফুটবল ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন।
উপহার গ্রহণের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকার ইতিহাসে আমি প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে লিওনেল মেসিকে হোয়াইট হাউজে স্বাগত জানানোর সুযোগ পাচ্ছি। আমরা আজ প্রকৃত সেরাদের সম্মান দিচ্ছি।” ট্রাম্প আরও যোগ করেন, তার ছেলে আগেই জানত মেসি আসছেন এবং তিনি মেসিকে একজন অসাধারণ মানুষ হিসেবে শ্রদ্ধা করেন।
মেসির সঙ্গে ইন্টার মায়ামির কোচ জাভিয়ার মাসচেরানো এবং দলীয় খেলোয়াড় জর্জে মাসও উপস্থিত ছিলেন। তারা ট্রাম্পকে বিশেষ স্মারক জার্সি এবং ঘড়ি উপহার দেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন মেসি ও তার দল ট্রাম্পের ফুটবল ও স্পোর্টস সংস্কৃতি নিয়ে প্রশংসা করেন।
২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামিতে যোগদানের পর এই প্রথম হোয়াইট হাউজ সফর করেছেন মেসি। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে আরেক কিংবদন্তি ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো হোয়াইট হাউজে অংশগ্রহণ করেছিলেন। মেসির此次 সফর শুধুমাত্র ক্রীড়াজগতের জন্য নয়, দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে।
মেসি হোয়াইট হাউজে পৌঁছার আগে তার প্রশংসা করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “এমন খেলোয়াড়দের আমরা সম্মান করি যারা মাঠে এবং মাঠের বাইরে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। মেসি তার ক্যারিয়ারে যে উজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপন করেছেন, তা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।” এই সফরের মাধ্যমে ক্রীড়াপ্রেমী ট্রাম্প ও বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল তারকা মেসির সাক্ষাৎ একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হলো।
উপহার গ্রহণের সময় মেসি বলেন, “ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ আমার জন্য একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা। হোয়াইট হাউজে আমাদের প্রথম সফরটি সত্যিই অসাধারণ হয়ে গেছে। আমরা সবাই ধন্যবাদ জানাই প্রেসিডেন্টকে আমাদের এই বিশেষ সম্মান জানানোর জন্য।”
ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক মেসির উপস্থিতি এবং উপহার দেওয়ার মুহূর্তটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। ফুটবল ও ক্রীড়া ভক্তদের জন্য এটি এক অনন্য মুহূর্ত, যেখানে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্রীড়া এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের এক মিলন ঘটেছে। হোয়াইট হাউজে এই অনুষ্ঠানটি কেবল ক্রীড়াজগতের সাফল্যের স্বীকৃতি নয়, একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়া বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে দৃঢ় করার একটি উদ্যোগ হিসেবেও দেখা যাচ্ছে।
মেসির এই প্রথম হোয়াইট হাউজ সফরের মধ্য দিয়ে তার আন্তর্জাতিক সুনামের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া সংস্কৃতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ইন্টার মায়ামি ক্লাবের সাফল্য, তার দলের সঙ্গে মেসির নেতৃত্ব এবং হোয়াইট হাউজে এই স্বীকৃতি, সব মিলিয়ে ক্রীড়া ও কূটনীতির মেলবন্ধনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।