ঘন কুয়াশায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ বার
ঘন কুয়াশায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

প্রকাশ: ০৭ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঘন কুয়াশার কারণে দেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে এই নৌরুটে সব ধরনের ফেরি চলাচল স্থগিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ফেরিপারের অপেক্ষায় যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও বিভিন্ন ছোট যানবাহনসহ শতাধিক গাড়ি আটকা পড়ে আছে।

নৌপরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শীতের শেষ দিকে এসে হঠাৎ করে ঘন কুয়াশা দেখা দেওয়ায় নদীপথে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বড় ফেরিগুলো যখন পদ্মা নদীর বিস্তৃত জলরাশির ওপর দিয়ে চলাচল করে, তখন সামান্য দৃশ্যমানতার ঘাটতিও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত Bangladesh Inland Water Transport Corporation-এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) Mohammad Salauddin ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার ভোর থেকেই নদীর ওপর ঘন কুয়াশা দেখা দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার ঘনত্ব বাড়তে থাকে, ফলে নদীপথে দৃষ্টিসীমা অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, ঘন কুয়াশার মধ্যে ফেরি চালানোর মতো কোনো বিশেষ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা বর্তমানে এই রুটে নেই। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে সব ফেরি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই নৌরুটটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন শত শত যানবাহন এই পথে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করে। রাজধানীমুখী যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক এবং বিভিন্ন ধরনের ছোট যানবাহন নিয়মিত এই ঘাট ব্যবহার করে থাকে।

ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সকাল থেকেই দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। যাত্রীবাহী বাসগুলোতে থাকা যাত্রীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা করছেন। অনেকেই রাজধানীতে জরুরি কাজের জন্য যাচ্ছিলেন, কিন্তু হঠাৎ করে ফেরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন।

ঘাট এলাকায় উপস্থিত কয়েকজন যাত্রী জানান, তারা ভোরবেলা থেকেই ঘাটে এসে অপেক্ষা করছেন। অনেকেরই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু ফেরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। কেউ কেউ বাস থেকে নেমে ঘাট এলাকায় হাঁটাহাঁটি করছেন, আবার কেউ বাসের ভেতরেই বসে অপেক্ষা করছেন কবে ফেরি চলাচল শুরু হবে।

শুধু যাত্রীবাহী বাসই নয়, পণ্যবাহী ট্রাকগুলোও দীর্ঘ সময় ধরে ঘাটে আটকা পড়ে আছে। এসব ট্রাকে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য, শিল্পকারখানার কাঁচামাল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য। চালকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হলে পণ্য পরিবহনে বিলম্ব ঘটতে পারে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্রাকচালকদের একজন বলেন, তারা রাত থেকেই ঘাটের দিকে রওনা দিয়েছিলেন যাতে সকালেই নদী পার হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। কিন্তু ঘন কুয়াশার কারণে ফেরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দৃষ্টিসীমা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফেরি চালু করা সম্ভব নয়। কারণ নদীর মাঝখানে কুয়াশার ঘনত্ব বেশি থাকলে ফেরিগুলো সঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না এবং অন্য নৌযানের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হয়।

নদীপথে চলাচল করা নৌযানের নিরাপত্তার জন্য এই ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা নিয়মিত বিষয় বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশা দেখা দিলে প্রায়ই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটটি পদ্মা নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত ফেরি রুট হিসেবে পরিচিত। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা যেমন ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা এবং বরিশাল অঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই রুটের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

যদিও বর্তমানে পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় অনেক যানবাহন সেতু ব্যবহার করছে, তবু দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুট এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে ভারী পণ্যবাহী ট্রাক এবং কিছু নির্দিষ্ট যানবাহন এখনও এই ফেরি রুট ব্যবহার করে থাকে।

স্থানীয় প্রশাসন ও ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুয়াশা কেটে গেলে দ্রুত ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হবে। এ জন্য ফেরি ও ঘাট সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রস্তুত রয়েছেন।

সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, কুয়াশা কেটে গিয়ে নদীর দৃষ্টিসীমা স্বাভাবিক হলেই ফেরি চলাচল আবার শুরু করা হবে। তখন অপেক্ষমাণ যানবাহনগুলোকে পর্যায়ক্রমে নদী পারাপার করা হবে।

এদিকে ঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যানবাহনের সারি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শীত মৌসুমে নদীপথে কুয়াশাজনিত সমস্যার কারণে মাঝেমধ্যেই এই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তাই ভবিষ্যতে আধুনিক নৌ-নেভিগেশন প্রযুক্তি ও উন্নত রাডার ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানো গেলে এমন পরিস্থিতি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হতে পারে।

তবে আপাতত যাত্রী ও চালকদের জন্য অপেক্ষা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। সবাই এখন অপেক্ষা করছেন কখন কুয়াশা কেটে যাবে এবং কখন আবার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত