প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জনপ্রিয় ভারতীয় র্যাপার বাদশা আবারও আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছেন। তার নতুন হারিয়ানভি গান ‘টাটেরি’ নিয়ে সামাজিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় হরিয়ানা পুলিশের পানিপথ ও পঞ্চকুলা থানায় বাদশার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই গানের কথায় যৌন ইঙ্গিত এবং স্কুলছাত্রীদের উপস্থাপনার ধরন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে হরিয়ানা মহিলা কমিশন।
গানটি বাদশার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে ১ মার্চ মুক্তি পায়। মুক্তির পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গানটি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন নারী অধিকারকর্মী ও সমাজকর্মীরা। হরিয়ানা মহিলা কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাদশার এই নতুন গানে ব্যবহৃত শব্দ ও সংলাপ অত্যন্ত আপত্তিকর, যা সামাজিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। কমিশনের পক্ষ থেকে পানিপথ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
মহিলা কমিশনের পাশাপাশি পঞ্চকুলার এক ব্যক্তি অভয় চৌধুরী বাদশার বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, গানের ভিডিওতে স্কুলছাত্রীদের উপস্থাপনা কুরুচিপূর্ণ এবং অশালীন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গায়কের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় এফআইআর (ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট) করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রথম শুনানি আগামী ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
বাদশার আইনি ঝামেলা এটি প্রথম নয়। এর আগেও তিনি প্রবীণ শিল্পী রতন কাহারের ‘বড়লোকের বেটি’ গানটি নতুনভাবে তৈরি করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। সেই গানের কপিরাইট ও লোকসংগীতের অবমাননার অভিযোগে তাকে আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল। সেই বিতর্ক কাটতে না কাটতেই এবার নতুন গান ‘টাটেরি’ তার জন্য নতুন আইনি চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমসাময়িক সমাজে গান ও বিনোদনের মাধ্যমগুলোকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রভাব বিস্তারকারী হিসেবে দেখা হয়। তাই যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত কনটেন্টে যৌন ইঙ্গিত বা শিক্ষার্থীদের এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যা অশোভন বা অবমাননাকর, তা নিয়ে সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতীয় বিনোদন ও আইনি পরিসরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
মিউজিক ভিডিওটি মুক্তির পরেই বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা গানটির অশ্লীল উপস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা শুরু করেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে এই ধরনের ভিডিও যুব সমাজের নৈতিক মানসিকতা প্রভাবিত করতে পারে। অন্যদিকে বাদশার সমর্থকরা বলেন, এটি তার সৃজনশীল প্রকাশের অংশ এবং শিল্পের স্বাধীনতা সীমিত করা ঠিক হবে না। ফলে আইনি ও সামাজিক দিক থেকে ব্যাপক তর্ক-বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
আইন ও বিনোদন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গান বা ভিডিওতে যেসব উপাদান শিশু ও কিশোরদের জন্য অনুপযুক্ত হতে পারে, সেগুলি আইনি দিক থেকে বিবেচিত হয়। হরিয়ানা মহিলা কমিশন ও স্থানীয় পুলিশ আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি, শিল্পীদের জন্যও এটি সতর্কবার্তা যে, সামাজিক ও আইনি বিধি মেনে কনটেন্ট তৈরি করা প্রয়োজন।
এই ঘটনার ফলে বাদশা এবং তার দলকে আইনি সহায়তা নিতে বাধ্য হতে হয়েছে। তাঁরা ইতিমধ্যে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ শুরু করেছেন। পুলিশ ও আদালত জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, গানটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা ও সমর্থনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক দর্শক দাবি করছেন, এ ধরনের কনটেন্টে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও কড়া নিয়মনীতি প্রণয়ন করবে। অন্যদিকে কিছু সমর্থক গান ও শিল্পীর সৃজনশীল স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন।
আইনগত ও সামাজিক বিতর্কের মাঝে গানটি এখনও জনপ্রিয়তার দিক থেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এই ঘটনা ভারতের বিনোদন জগত এবং সামাজিক মূল্যবোধের মধ্যে সৃষ্ট সংবেদনশীলতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর সঙ্গে একদিকে আইনি বাধ্যবাধকতা এবং অন্যদিকে সৃজনশীল স্বাধীনতার সংঘাত প্রকাশ পাচ্ছে।
এই ধরনের বিতর্কগুলো ভারতীয় বিনোদন শিল্প ও সমাজে দীর্ঘদিন ধরে দেখা যাচ্ছে। তবে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে শিল্পী ও প্রযোজকদের জন্য একটি দিকনির্দেশনা তৈরি হতে পারে, যাতে সৃজনশীল কাজের সঙ্গে সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্বও সমন্বিত থাকে।